ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, তত বাড়ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আগ্রহ। ক্যাম্পাসে এখন ছুটির আমেজ। অনুষদ ও হলগুলোতে বিরাজ করছে নীরবতা। লাইব্রেরি ও সেমিনার কক্ষ বন্ধ, নেই ক্যাফেটেরিয়ার চিরচেনা আড্ডার শোরগোল।
জানা গেছে, পবিত্র রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০ দিনের ছুটিতে গেছে চবি। গত ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘরমুখো হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন। কেউ রমজানের শুরুতেই চলে গেছেন, কেউ টিউশন বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততা শেষে ঈদকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ফেরেননি। বর্তমানে যারা ক্যাম্পাসে আছেন, তারা শুরু করেছেন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরচেনা ঈদযাত্রা।
সরজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে এখন ক্লাস-পরীক্ষার তাড়াহুড়ো নেই। শিক্ষার্থীরা ব্যাগ হাতে বসে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাসে মেতে আছেন। জানালার বাইরে আসা বাতাসে কেউ মুক্তির স্বাদ নিচ্ছেন, কেউ মেতে আছেন ঈদের কেনাকাটা ও পরিকল্পনার গল্পে। মায়ের হাতের সেমাই আর বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজের স্বাদে একাডেমিক চাপ এক নিমেষে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন সাকিব বলেন, ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন বাড়ি যাওয়া হয় না। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে পরিবারের সবার সঙ্গে একত্রিত হওয়া যেন ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নিশাত সালসাবিল শিকদার বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরার অনুভূতি সবসময়ই অন্যরকম। তবে এবারের বাড়ি ফেরা জীবন পাতায় নতুন এক অভিজ্ঞতা যোগ করেছে, তা হলো প্রথমবার ট্রেনে ইফতার করা। প্রথমে খুব একা একা লাগছিল, কিন্তু ইফতারের সময় হতেই পুরো ট্রেনের মানুষগুলো যেন একে অপরের আত্মীয় হয়ে যায়। পরস্পরের সাথে মিলে-মিশে ইফতার ভাগ করে খাওয়ার এই দৃশ্য আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির কত সুন্দর একটি দিক, তার সাক্ষী হতে পারলাম। সত্যিই এ এক অন্য রকম অনুভূতি!
ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোতেও নীরবতা বিরাজ করছে। ডাইনিংয়ের ব্যস্ততা কমেছে, রিডিং রুমের টেবিলগুলো একে একে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিদায়ের সময় রুমমেটদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অগ্রিম ‘ঈদ মোবারক’ জানানো এবং সিনিয়রদের কাছে জুনিয়রদের সালামির দৃশ্যগুলো হলের প্রতিটি ব্লকে শূন্যতা তৈরি করছে।

স্থানীয়দের আনাগোনা থাকলেও আগামী কয়েক দিন চবি ক্যাম্পাস তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে নীরবতায় ডুবে যাবে। শাটল ট্রেনের হুইসেল আবার কবে নিয়মিত শোনা যাবে, সেই প্রতীক্ষায় থাকবে পাহাড় ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা ও তাদের শারীরিক সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই।