বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুর-এস ড্রাইভ অভিযান

অপরাধী ধরতে পুলিশের নতুন টনিক

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৮
জঙ্গল সলিমপুর- এস ড্রাইভ অভিযান : অপরাধী ধরতে পুলিশের নতুন টনিক

পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ ও ‘জঙ্গল সলিমপুর’ অভিযান অপরাধী গ্রেপ্তার ও অপরাধ দমনের কার্যকর টনিক হয়ে উঠেছে। একদিকে ‘এস ড্রাইভ’র মাধ্যমে নগরে অপরাধীদেরকে তাড়া করা হচ্ছে। আবার তাড়া খাওয়া সন্ত্রাসীরা যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকতে না পারে, সেজন্য অভয়ারণ্য খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে চালানো হয়েছে চিরুনি অভিযান। চলতি মার্চের শুরু থেকে চলমান এ দুইটি সফল অভিযানের ফলে খাঁচাবন্দি হতে শুরু করেছে অপরাধীরা । পুলিশের এমন সাফল্যে শঙ্কিত জনমনে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, চট্টগ্রাম শহর বা অন্যান্য অঞ্চল থেকে অপরাধ করে অপরাধীরা জঙ্গল সলিমপুরে আর লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। র‌্যাব, সেনাবাহিনী,জেলা পুলিশ, সিএমপি, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স, পার্বত্য ঝেলা আমর্ড পুলিশ ও বর্ডার গার্ডের ৩ হাজার ১৭৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে চিরুণি অভিযান চলেছে। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), তিনটি ডগ স্কোয়াড ও ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানের দিন ২২ জনকে গ্রেপ্তার ও বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি টহলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে এখন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর বা আলীনগর এখন আর সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের অভয়ারণ্য নয়, ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

একদিকে ‘এস ড্রাইভ অভিযান’ অন্যদিকে সলিমপুর হারা অপরাধীরা এখন দিগ্বিদিক ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে। আর দিশেহারা হয়ে খপাখপ খাঁচাবন্দি হচ্ছে তারা। এই প্রেক্ষিতে এস ড্রাইভ অভিযান আর জঙ্গল সলিমপুর অপারেশনকে পুলিশের সুপরিকল্পিত একটি প্রজেক্ট মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

১ মার্চ রাত থেকে শুরু হওয়া ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানের সফলতম অভিযান পরিচালিত হয়েছে মঙ্গলবার (১০ মার্চ)। এই দিন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের শীর্ষ তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যারা ২৮ ফেব্রুয়ারি কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসা লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির ও মোহাম্মদ সায়েম। তাদের কাছ থেকে এসএমজি (সাব মেশিনগান), পিস্তল ও রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো শিল্পপতির বাসায় গুলি চালানোর সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আসামিরা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল এস ড্রাইভ অভিযানে বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এ দুটি আমাদের বড় সফলতা। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী রেজাল্ট পেতে শুরু করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য, সলিমপুরের এক ইঞ্চি জায়গাও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে পারবে না। শুধু সলিমপুর নয়, সিএমপি’র কোন এলাকায় কোন ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড চলতে দেয়া যাবে না। নগরের ১৬ থানায় আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানে ১ মার্চ ৬৫ জন, ২ মার্চ – ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ২ জন করে, ৫ মার্চ ৭০ জন, ৬ মার্চ ৩৭ জন, ৭ মার্চ ৪৬ জন, ৮ মার্চ ৩৮ জন, ৯ মার্চ ৪৮ জন ও ১০ মার্চ ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভিডিও