সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া

আওয়ামী লীগের ভোটাররা ফ্যাক্টর হতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৫

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে প্রার্থীদের শেষ মুহুর্তের নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতি চলছে। লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার হাটে-মাঠে-ঘাটে সবার মুখে এখন নির্বাচনী আড্ডা আলোচনা। এ আসনে তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই ভোট আদায়ে নানা কৌশল প্রয়োগ করছেন নির্বাচনী মাঠে।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এখানে মূল লড়াইটা হবে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে। তাই প্রার্থীরা আদর্শিক ভোটের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ ও সংখ্যালঘুর ভোট আদায়ের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

প্রবাসী ও ব্যবসায়ী অধ্যুষিত এলাকা লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া। শিক্ষাদীক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অনেক ঐতিহ্যের পীঠস্থান এ দুই উপজেলা। ঐতিহাসিকভাবেই আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখানে জামায়াতের বর্তমান প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত মোস্তাক আহামদ চৌধুরী এবং ১৯৯৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম) এই আসনে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে বিএনপি–জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির শামসুল ইসলাম জয়ী হন। ২০১৪ সাল ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এমন অবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ের নিয়ামক হিসেবে প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ফ্যাক্টর মনে করছেন। এ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু-বৌদ্ধ ভোটার। এদের ভোট আদায়ে প্রার্থীরা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করা এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদেরকে কাজে লাগাচ্ছে। তাদেরকে নির্বাচনী মাঠে নামিয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুনতি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল বাহার রাজা বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ পন্থি তুলনামূলক কম। অতীতে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক বা কাজ করেছিল তারা বাধ্য হয়ে নির্যাতনের ভয়ে আওয়ামী লীগ করেছিল। এবার তারা নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাঞ্চনা ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইউনুচ বলেন, এবার আওয়ামী লীগের সৎ ইমানদার ভোটাররা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। তাছাড়া আমাদের সাথে কর্ণেল অলি আহমদও আছেন। আমাদের নেতা শাহজাহান চৌধুরীর অনেক অবদান আছে। তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিক। ভোটাররা এবার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ভোটাররা সচেতন ভাবে যোগ্য,দক্ষ প্রার্থীকে ভোট দেবে ইনশাল্লাহ।

এ ব্যাপারে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চুনতি ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারী মেহেদী হাসান রানা বলেন, এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিএনপি প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছে। প্রচার প্রচারণাসহ নানা নির্বাচনী কাজও করছে তারা। সে হিসাবে ধরে নেয়া যায়, এদের ভোটগুলো বিএনপির বাক্সে পড়বে।

লোহাগাড়ার ভোটার চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হামিদ হোসেন হামিদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার ভোট দিতে যাবে কীনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে রেখেছেন তিনি। তার জন্য আমরা নিরন্তর কাজ করছি। এ আসনে দলীয় প্রার্থী পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

উপজেলা নির্বাচনী অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌরসভা, ২০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটির মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। এ আসনটিতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ২৭২ জন।

ভিডিও