রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যে চার চ্যালেঞ্জ ভাবিয়ে তুলছে চট্টগ্রামের চার দ্বীপের ভোট

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০

সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশের মত উন্মাদনা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চারটি দ্বীপেও। সন্দ্বীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া , সেন্টমার্টিন – এ দ্বীপাঞ্চলেও শোনা যাচ্ছে ভোটের দামামা। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এখানে আসছেন ভোট চাইতে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন যোগাতে চাইছেন ভোটারদের।

তবে ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্গম অঞ্চল আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এসব দ্বীপাঞ্চলে ভোটের হিসেব-নিকেশ আর ব্যবস্থাপনা অনেকটাই আলাদা।
সমুহ কারণে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হলেও ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল , সহিংসতা এখানে পুরোনো ঘটনা। আবার সাইবার নেটওয়ার্কিং দুর্বলতার কারণে দ্বীপাঞ্চলগুলোতে কোনো ঘটনা ঘটলেও তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। তাছাড়া দুর্গম ও যাতায়াত সংকটপূর্ণ এসব এলাকায় বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা। এমন অবস্থায় চার দ্বীপে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের কাছে রীতিমত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, ল্যান্ডে পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি আমাদের বোট পেট্রোল থাকবে, জাহাজ থাকবে এবং স্পেশাল মনিটরিং সার্ভিলেন্স যেটা ড্রোনের মাধ্যমে যেটা আছে সেটা থাকবে। সো আইল্যান্ডের চারপাশে যখন আমাদের ড্রোন সার্ভিলেন্স থাকবে তখন যেকোনো ব্যক্তি যেকোনোভাবে আসুক না কেন তারা আন-আইডিফায়েড থাকতে পারবে না।

তাছাড়া দ্বীপাঞ্চলে ভোটের সময় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ চালু রাখার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

জানা গেছে , চট্টগ্রাম অঞ্চলের চার দ্বীপের ৩টি আসনের ২০৩ কেন্দ্রে ভোট দেবেন প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার। এর মধ্যে মহেশখালী আর কুতুবদিয়ার যোগাযোগ অবস্থা এখন অনেকটাই উন্নত। নানা অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে এ দুই দ্বীপের চিত্র আগের থেকে পাল্টেছে। তবে ৮৩ কেন্দ্রের সন্দ্বীপ এবং একটি মাত্র কেন্দ্রের সেন্টমার্টিন দ্বীপের তেমন উন্নয়ন ঘটেনি বলা যায়। এ দুই দ্বীপের ভোট নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এখানে একই সাথে যথাসময়ে ভোট শুরু ও শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করাও বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এসব এলাকায় ভোটের হাওয়া এখনও স্থিতিশীল থাকলেও নির্বাচনে বাইরের জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের শঙ্কা ভোটের মাঠে সক্রিয় হতে পারে দ্বীপের বাইরের জলদস্যু গ্রুপগুলো। যদিও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

স্থানীয় এক ভোটার বলেন, ভোটের সময় স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যা হলেও হতে পারে। তবে ভয়ের কারণ ভাড়াটে জলদস্যু। জলদস্যুরা যদি এইখানে ঢোকে তাহলে এইখানের কারো পক্ষের হয়ে হয়তো কাজ করবে। আমরা চাই এ ধরনের কোনোকিছু যাতে না হয়।

ভিডিও