রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চবি’র পাহাড়ি ছড়া দিয়ে কাঠ পাচার, শিক্ষার্থীর সহায়তায় জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় পাহাড়ি ছড়াগুলো হয়ে উঠেছে চোরাই কাঠ পাচারের নিরাপদ রুট। পাহাড়ি এ ছড়া ব্যবহার করেই অসাধু চক্র অভিনব কৌশলে পাহাড়ি কাঠ পাচার করে চলেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে কাঠ পাচারের সময় ৭৬টি সেগুন ও গামারি গাছ উদ্ধার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে মো. মিঠু ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক গ্রুপে একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পেছনের ঝর্ণার ছড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযানে যান। ​প্রাথমিকভাবে ছড়াটি শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভিডিওর আলামত ধরে প্রায় ২ কিলোমিটার ভেতরে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা দল। পরবর্তীতে ‘ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস’ সংলগ্ন বাঁশ বাগানের পেছনে ছড়া থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় মোট ৭৬ টুকরো গাছ জব্দ করা হয়। জব্দ করা গাছের মধ্যে গামারি থাকলেও অধিকাংশ মূল্যবান সেগুন।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, পাচারকারীরা ছড়ার উজানে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে রেখেছিল। পরে সেই বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানির তীব্র স্রোত তৈরি করে গাছের টুকরোগুলো ভাটির দিকে ভাসিয়ে দেয়। মূলত পরিবহন জটিলতা এড়াতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে কাঠ সরাতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে নামি। প্রায় ২ কিলোমিটার সামনে অগ্রসর হয়ে আমরা ৭৬টি গাছের টুকরো উদ্ধার করি। প্রশাসনের নির্দেশক্রমে রাতে পাহারা জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

ভিডিও