নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারার বিরুদ্ধে চলমান কর্মবিরতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে চট্টগ্রাম বন্দরে।আমদানিকৃত পণ্য বন্দরে এলেও তা সময়মতো খালাস করা যাচ্ছে না। আবার ডিপো থেকে পণ্যভর্তি কনটেইনার বন্দরে পাঠাানো যাচ্ছে না রপ্তানির জন্য। এমন অবস্থায় বন্দরে লোডিং-আনলোডিং কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
এমন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার থেকেও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি চলছ। অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি থেকে আগামীকাল ৪ ফেব্রুয়ারি টানা পাঁচদিনের স্থবিরতায় ভুগছে চট্টগ্রাম বন্দর।
তবে বন্দর প্রশাসনের দাবি, কর্মবিরতি চললেও বন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, কর্মবিরতির মাঝেও কাজ চলছে বন্দরে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় কমেছে। আগে যে পরিমাণ পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস হতো, সেটি অনেকটা কমে গেছে। সামনে নির্বাচন ও রমজান। এই সময়টা মাথায় রাখা উচিত আন্দোলনকারীদের।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ডিপোতে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয় রপ্তানি কনটেইনার। কর্মবিরতির কারণে এখন সেই ডিপোতে তৈরি হচ্ছে জট। স্বাভাবিক সময়ে ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ৮০০টি রপ্তানি কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কিন্তু কর্মবিরতি শুরুর প্রথমদিন ৩১ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় দিন রপ্তানি কনটেইনার গেছে যথাক্রমে এক হাজার ৬১০ ও এক হাজার ৪৭২টি। এমন অবস্থায় ডিপোতে সৃষ্টি হয়েছে কন্টেইনার জট। ২১টি বেসরকারি ডিপোতে রপ্তানি কনটেইনার জমে গেছে আট হাজার ৯০০টি।
চলমান কর্মবিরতির কারণে পণ্যভর্তি কন্টেইনার খালাসের কাজেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। কর্মবিরতি শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার খালাস হয়েছে চার হাজার ৯৯টি। কিন্তু পরদিন ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় কর্মবিরতি। ওইদিন কন্টেইনার খালাস হয়েছে এক হাজার ৭৫০টি। যা আগের দিনের তুলনায় এক চতুর্থাংশই বলা যায়। ১ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ৬৮৪ ও ২ ফেব্রুয়ারি এক হাজার ২৩০টি কন্টেইনার খালাস হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাস্টম হাউসে। কমেছে রাজস্ব। প্রতিদিন গড়ে ১৭০ কোটি টাকা আদায় করা প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উল্টো গণহারে বদলি করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দমাতে তদন্তসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরকম হলে এই আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন্দরের অচলাবস্থায়। সামনে নির্বাচনের ছুটি। এর মধ্যে আজ থেকে ২৪ ঘণ্টা অবরোধের কর্মসূচি এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রপ্তানি কনটেইনার রেখে বন্দর ছেড়ে যাবে অনেক মাদার ভেসেলগুলো। তখন অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।