রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনে ভয় দেখাচ্ছে অস্ত্র

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয় দেখাচ্ছে অস্ত্র। একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। তারওপর সীমান্ত দিয়েও ঢুকছে বিদেশি অস্ত্র।

আসন্ন নির্বাচনী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এগুলোর অপপ্রয়োগ হতে পারে—এমন শঙ্কায় আতঙ্কিত সাধারণ ভোটাররা। তারা বলছেন, অপরাধীদের কাছে লুকিয়ে থাকা এসব অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে হাতবদল হয়ে। সীমান্ত পেরিয়ে নির্বাচনকে টার্গেট করে আরও প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র আসার খবর গণমাধ্যমে উঠে আসায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদারের কথাও জানিয়েছেন প্রশাসন।

গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে খুন হয়েছে ৩৫ জন। তবে প্রতিটি হত্যাকান্ডের শিকার বা জড়িতদের ব্যাপারে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি মুখে মুখে আলোচিত হয়েছে। এতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি জনভীতিও সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য খোরশেদুল আলম বলেন, অস্ত্রবাজদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। সকল অস্ত্রবাজদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে। আগে থেকেই কেউ যদি অস্ত্রের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং ভীতি প্রদর্শন করে এটা খুবই খারাপ লক্ষণ।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সারাদেশেই এমন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা নির্বাচনের আগে। যাতে এ পরিস্থিতি বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এখন সরকার যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারে তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম মহানগরের ৮টি ও জেলার ৩টি থানা থেকে মোট ১ হাজার ১৮০টি অস্ত্র লুট হয়। বিভিন্ন সময়ের অভিযানে ৯৯৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্রের মধ্যে চায়নিজ রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্দুক, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগানসহ আরও নানান ধরনের অস্ত্র রয়েছে বলছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আহসান হাবীব পলাশ বলেন, অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের নিয়মিত উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, টেকনাফ থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত নজরদারি থাকলেও দেশে ঢুকছে অস্ত্রের চালান। তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটারের ১৪টি রুট দিয়ে এসব অস্ত্র দেশে ঢুকছে। এর মধ্যে ঘুমধুম বাইশফাড়ি, বালুখালী, উখিয়ার পালংখালী, হোয়াইক্যং নলবনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি রুট উল্লেখযোগ্য। এ অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত রয়েছে প্রায় ডজন খানেক গ্রুপ; যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর।

অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, এটা একটি জটিল সীমান্ত। এই মুহূর্তে সেখানে কোনো সরকারি বাহিনী নেই। একটি নন-স্টেট অ্যাক্টর সেখানে কাজ করছে। যাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ ও বিনিময়ের সমস্যা রয়েছে। চোরাচালান রোধে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, শুধু বিদেশি নয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, কক্সবাজার, মহেশখালীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও তৈরি হচ্ছে অস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা প্রশাসনের অভিযানে মাঝে মাঝে এসব অস্ত্র উদ্ধারও হচ্ছে।

ভিডিও