ফ্যাসিবাদের দরজা চিরতরে বন্ধ করতে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহযোগী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে স্থায়ীভাবে বিদায় জানাতে চান কি না— এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিতে হবে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটবে গণভোটের রায়ে। নাগরিকরা গণভোটে যে রায় দেবেন, সেটিই দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে।’
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নির্বাচন, গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেন আর কোনো একক সিদ্ধান্তে বাতিল করা না যায়, সে জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে প্রথমে নিম্নকক্ষ, পরে উচ্চকক্ষের অনুমোদন এবং প্রয়োজন হলে গণভোট আয়োজন বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার পরিবর্তে সরকারি দল, বিরোধী দল ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে নিরপেক্ষ নিয়োগ পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে মনির হায়দার বলেন, ‘মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার একক ক্ষমতা ফ্যাসিবাদ তৈরি করতে পারে। তাই উচ্চকক্ষ ও গণভোটের বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।’ পাশাপাশি একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না বলেও তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ও আইন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’ সংসদীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল করার প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, ‘বিচারক নিয়োগে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীরা যে রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে, তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হবে।’ ইতিহাসের ভুল পুনরাবৃত্তি করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) ড. শামিম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. কামাল হোসেনসহ দেশের ২২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপকরা।