চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাঘ মাসের সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা। প্রতিবারের মতো এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ ভক্ত, সাধু ও সন্ন্যাসীর সমাগমে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ঋষি কুম্ভ মেলার ইতিহাস প্রাচীন। লোককথা ও ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে কয়েকজন সিদ্ধপুরুষ ও ঋষি সাধনা করতেন। তাদের স্মৃতি এবং আধ্যাত্মিক সাধনার ধারাবাহিকতাকেই কেন্দ্র করে জন্মেছে এই মেলা। মেলায় পুণ্যস্নান, যজ্ঞ, পূজা, কীর্তন এবং ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক বন্ধন বজায় থাকে।

সরজমিনে দেখা গেছে, মেলার আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে গ্রামীণ সংস্কৃতির রঙও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাঙ্গণে বসেছে লোকজ হস্তশিল্প, মাটির খেলনা, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, পিঠা ও স্থানীয় খাবারের দোকান। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা বয়স নির্বিশেষে এখানে একত্রিত হয়ে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছেন। মেলার সাম্প্রদায়িক মিলনও বিশেষভাবে নজর কাড়ে; হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হলেও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও এখানে অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা মেলায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় ভক্ত ও সাধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং মেলার সফলতা কামনা করেছেন। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি সংযোগও ঘটে।
পূর্ণার্থীরা বলছেন, ঋষিধামের এই মেলা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে রেখেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও মেলার মূল ভাবনা—বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মানবিক বন্ধন আজও অটুট।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম ও বাঁশখালী থানা পুলিশের নেতৃত্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এছাড়া ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ সভাপতি দেবাশীষ পালিত, ২২তম ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস, সদস্য সচিব চন্দ্র শেখর মল্লিক, অর্থ সচিব তড়িৎ কান্তি গুহ, বিমল কান্তি দেব, ভূপাল গুহ, রাজীব সিংহ, অ্যাডভোকেট কাঞ্চন বিশ্বাস, প্রদীপ কান্তি গুহ, ঝুন্টু কুমার দাশ, দোলন দাশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রতিনিয়ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকি করে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, দেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা ১৯৫৭ সাল থেকে প্রতি তিন বছর অন্তর শুরু হয়।