রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপার সাথে আর খেলবে না মেজবাহ !

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬

‘বোনের সাথে আর খেলবে না আমার মেজবাহ। আমাকে আর বিরক্ত করবে না, বাবা চিপস কিনে দাও বলে। আমি ছেলেকে খেলতে বসিয়ে দোকানে গিয়েছিলাম। এরমধ্যে আমার ছেলে নলকূপের গভীর গর্তটিতে পড়ে যায়। আমি দোকানে না গেলে এই বিপদ আসতো না। আল্লাহ আমি কিভাবে মনকে বুঝ দেব?’ বুক চাপড়ে শিশু মেজবাহর বাবা সাইফুল ইসলাম বিলাপ করছিলেন। বুকের ধন একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তাদের পরিবারে এখন শোকের ছায়া। মেজবাহর ছবি, মেজবাহর স্মৃতি, মেজবাহর খেলনাগুলো বুকে নিয়ে আহাজারি করছে তার মা রাশেদা বেগম।

২৯ জানুয়ারি বিকেলে রাউজানের কদলপুরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে তিন বছরের শিশু মেজবাহ’র করুণ মৃত্যু হয়। বড় বোন নিমুমনির সাথে খেলার সময় মেজবাহ হঠাৎ পা পিছলে গর্তটিতে পড়ে যায়। বড় বোনের হাত ধরে ফেললেও বেশিক্ষণ সে আর পারেনি। সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু মেজবাহ তার কোমল হাতের শক্তিই বা আর কত?

মেজবাহ’র বড় বোন নিমুমনি বলে, ভাই গর্তে পড়ে গেলে আমার হাত ধরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর ভাইয়া চিৎকার করতে করতে গর্তে ঢুকে যায়।

জানা গেছে, জয়নগর গুচ্ছ গ্রামের ছোট্ট শিশু মোহাম্মদ মেজবাহ বড় বোন নিমুমনির সাথে টিলা ভূমির বাড়ি থেকে বিকালে খেলতে গিয়েছিল বাড়ির পাশে খোলা জায়গায়। খেলতে খেলতে মেজবাহ পাশের লতাপাতা ঢাকা একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পা পিছলে পড়ে যায়। সে যখন গর্তের গভীরে চলে যাচ্ছিল তখন মা মা চিৎকার করে লতাপাতা আঁকড়ে ধরে উপরে উঠার চেষ্টা করছিল। তার বোন তখন ভাইয়ের অবস্থা দেখে চিৎকার করতে থাকে। তা শুনে সেখানে ছুটে যায় পাড়ার লোকজন। তারা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানায় ফোন করে। সংবাদ পেয়ে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ, সেনা সদস্যরা। শিশুটির জীবন বাঁচানোর তাগিদে গর্তে লাগানো হয় অক্সিজেন পাইপ, শুরু হয় গর্তের বাইরে থেকে খনন কাজ। পরে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্চ ভিশন ক্যামেরার সাহায্যে টিলাভূমির উপরিভাগ থেকে প্রায় ২০–২৫ ফুট নিচে মেজবাহর অবস্থান সনাক্ত করে।

সেখানে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কাজ তদারকিতে ছিলেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা, সহকারি পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম জেলা ফায়ার সার্ভিস–৩ জোনের উপসহকারি পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, পড়ে যাওয়ার প্রায় চারঘন্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি মারা গেছে।

ভিডিও