রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোটের আগেই চট্টগ্রামে ১০ সহিংসতা, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৩
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রামে প্রচারণার মাঠে শ্লোগান দেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের ভেতর মারামারির ঘটনা ততই বাড়ছে। ছবিটি ২৭ জানুয়ারি আমবাগান এলাকা থেকে তোলা। ছবি— পূর্বতারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রচারণা শুরুর আগে ও পরে চট্টগ্রাম নগর এবং আশপাশের উপজেলায় অন্তত ১০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

এতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জানুয়ারিতে রাউজানে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবদল কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি রাউজানে গুলিতে নিহত হন জানে আলম সিকদার নামে এক যুবদল নেতা। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এর পর গত ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৯ আসনে বৃহত্তর সুন্নি জোট–সমর্থিত ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলায় গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়।

২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী সভায় ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে প্রচারণাকালে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে জামায়াতের বিরুদ্ধে। এতে বিএনপির দুই কর্মী আহত হন।

একই দিন রাতে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ ওঠে। জামায়াতের দাবি, এতে তাদের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এসব ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরকে দায়ী করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে। তাদের ভেতর একজন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন তার এলাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর সময় হামলার ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই আসনের সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নয়। এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল হতে পারে।

এই বিষয়ে নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আসনভিত্তিক অভিযোগ তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খুলশী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান থেকে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গুলির ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। চট্টগ্রামেও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। এসব অস্ত্র এবারের নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশংকা ভোটারদের।

ভিডিও