প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট শিক্ষকের মতো কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে শিক্ষক নেই, সেই স্কুলের জন্য ইন্টারনেটই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তেমনি ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, ‘ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন কাগজে কলমে হলেও বাস্তবে এটি যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়নি। সরকার এক ধরনের সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে দিলে জনগণ নিজেদের মতো করে তা ব্যবহার করবে। এটিই তথ্য প্রযুক্তির শক্তি।’
প্রধান উপদেষ্টা সরকারের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণা একটি ভুল জিনিস। এটি একটি দাস প্রথার অংশ। সরকারকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সহায়তা করতে হবে।’
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় একই পদে থাকার প্রবণতাকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তার মতে, পাঁচ বছরের বেশি একই পদে থাকা সৃজনশীলতা নষ্ট করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুনভাবে শুরু করা উচিত, কারণ সময়ের সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়, আর পুরোনো ধারণা ধরে রাখা অকার্যকর।
ড. ইউনূস জালিয়াতি প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা। এতে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রযুক্তিতে উন্নতি করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।’