ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ‘ভোটার সম্মানির রশিদ’ চট্টগ্রামের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নামে প্রচারিত হলেও এটি কুচক্রী মহলের মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার বলে দাবি করছে আসলাম চৌধুরীর প্রেস উইং।
ভাইরাল হওয়া রশিদে দেখা যায়, সাহেদা বেগম নামের এক নারীকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। রশিদ অনুযায়ী, ওই নারী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারির জাহানাবাদ এলাকার ভোটার। রশিদটি গত ২৬ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংযুক্ত করা হয়েছে।
আসলাম চৌধুরীর প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) এবং চসিক ৯-১০ ওয়ার্ড এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নামে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। আসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এ ধরনের অনৈতিক পথ অবলম্বন করেছে একটি বট বাহিনী।’
‘সম্প্রতি ভোটার সম্মান বিতরণ নামে একটি এআই কিংবা ফটোশপ জেনারেটেড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আসলাম চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে টাকা দিয়ে ভোট নিতে হয় না। দেশের সাধারণ সচেতন মানুষ মাত্রই এই অপচেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং এলাকার মানুষের সাথে সম্পৃক্ততাই আমাদের মূল শক্তি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অর্থ, পেশিশক্তি কিংবা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে যারা নির্বাচনী বৈতরণী পার করার দিবাস্বপ্নে মগ্ন, তাদের এ চিন্তা ব্যর্থ হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসলাম চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় প্রার্থীকে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে হয় না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততাই তার মূল শক্তি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের গুজবে কান না দিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি যুগ্ম-আহবায়ক মো. মনজুর আলম মঞ্জু গণমাধ্যমকে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, রশিদের একটা ছবি আমিও দেখেছি। এসবগুলো জামায়াত করছে। আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তারা যে আপিলটা করেছিল, সেটা শুনানি আজ হয়েছে। ওটাতে তারা হেরে গিয়ে পাগলের মতো আচরণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর যে জনপ্রিয়তা, তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একের পর এক অপপ্রচার করছে জামায়াত। এবং আমরা হাতে-নাতে ধরেছি জামায়াতের লোকজনকে। তারা প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় গিয়ে মহিলাদের মাধ্যমে মানুষের ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নাম্বার নিয়ে বিকাশে টাকা ঢুকাচ্ছে। যা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের আচরণবিধি লংঘন হয়েছে।’