রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামেই হচ্ছে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭
ছবি— এআই

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন–এফটিজেড) স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগ জোরদার এবং শিল্পখাতে পণ্য সরবরাহের সময় কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বেজার গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ারায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো কার্যকরভাবে ফ্রি ট্রেড জোনের ধারণা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রস্তাবিত এই অঞ্চলটি কাস্টমস বিধির আওতায় একটি অফশোর টেরিটরির মতো কাজ করবে। এখানে কোনো শুল্ক বাধ্যবাধকতা থাকবে না। পণ্য সংরক্ষণ, পুনঃরপ্তানি কিংবা উৎপাদনের সুযোগ থাকবে।

এফটিজেডের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে তিনি জানান, রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে কাঁচামাল সরবরাহের সময় বা ‘টাইম টু মার্কেট’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে অর্ডারের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা দ্রুত ডেলিভারির অর্ডারের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুলার মতো কাঁচামাল এফটিজেডে আগেই সংরক্ষণ করা যাবে। যেহেতু এই অঞ্চলটি কাস্টমসের আওতার বাইরে থাকবে, তাই স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে এসব কাঁচামাল ব্যবহার করতে পারবে। প্রয়োজনে এসব পণ্য ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য দেশেও পুনঃরপ্তানি করা যাবে। এতে বাজারে পণ্য পৌঁছাতে সময়জনিত জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই উদ্যোগের বৈশ্বিক উদাহরণ হিসেবে দুবাইয়ের জেবেল আলী ফ্রি জোনের কথা উল্লেখ করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রায় ১৪ হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জেবেল আলী ফ্রি জোন একাই বছরে প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিচালনা করে, যা বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য পরিমাণের চেয়েও বেশি। দুবাইয়ের মোট জিডিপির প্রায় ৩৬ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। বাংলাদেশও অফশোর বাণিজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এমন সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।

তবে নীতিগতভাবে অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ফ্রি ট্রেড জোন বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে, যা পরবর্তী সরকার সময় নিয়ে বাস্তবায়ন করবে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের একটি মাইলফলক অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ভিডিও