রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চবিতে সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে অবস্থানরত সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে। নিয়মিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে এমন চিত্র দেখা যায়। নগর থেকে টিউশন শেষে ফেরা শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সিএনজি চালকদের ভাড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। এ সময় অনেকে সিএনজিতে না উঠে হেঁটে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বাধ্য হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়া ৭ টাকা হলেও কোনো অনুমতি ছাড়াই চালকেরা তা বাড়িয়ে ১০ টাকা আদায় করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, দুইদিন পরপর সিএনজি চালকদের সঙ্গে ঝামেলা করা আমাদের জন্য বিব্রতকর। ক্যাম্পাসে নিয়মিত বাস বা ই-কার চালু করা হলে এই ভোগান্তি কমবে।

অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিএনজি চালক বলেন, মামা, আমরা তেলে গাড়ি চালাই। গ্যাস পাওয়া যায় না, পাম্পও বন্ধ থাকে। তাই ভাড়া একটু বেশি নিই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে আয়মান বলেন, আমি নিয়মিত নগরে যাতায়াত করি। খুচরা টাকা নেই—এই অজুহাতে প্রায়ই বেশি ভাড়া রাখা হয়। প্রতিবাদ করলে চালকদের আচরণ খুবই বাজে হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের কণ্ঠস্বর আরও রূঢ় হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয়, এমন যে কোনো সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ করব।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানান, এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিকল্প হিসেবে দ্রুত পাঁচটি ই-কার নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিডিও