রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঝুঁকিতে বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ ও উপকূল

মাছের ঘেরের দোহাই দিয়ে সাঙ্গুর চর লুট, জানে না প্রশাসন

বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৫

বাঁশখালীর খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া রাইছটায় সাঙ্গু নদীর চর এলাকায় চিংড়ি ঘেরের বাঁধ সংস্কারের অজুহাতে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যেভাবে অবৈধভাবে মাটি কেটে রমরমা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে- তা বেড়িবাঁধ ও উপকূলীয় এলাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিএনজি কামাল ও দাত্ত কামালের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মাটি খেকো সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাঙ্গু নদী সংলগ্ন সরকারি চর এলাকা থেকে মাটি কেটে যাচ্ছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এভাবে লাখ লাখ টাকার মাটি অবৈধভাবে বিক্রি হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেল, স্কেভেটর দিয়ে চর এলাকা থেকে মাটি কেটে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার কয়েকটি পুরাতন পুকুরে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দিনের বেলায় মাটি কেটে জড়ো করা হয় এবং রাতের আঁধারে ডাম্পার ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, মাসের পর মাস ধরে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় একদিকে উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে শত শত একর সরকারি চর ভূমি প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কবজায় চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতায় উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল বলেন, ‘মাছের ঘের করার জন্য মাটি কাটছি। পুলিশের কাছ থেকে লিখিত অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।’ কোন থানার পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অনুমতি নিয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

তবে বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এসআই জামালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মাটি কাটার বিষয়টি এসিল্যান্ড মহোদয়কে অবহিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন বলেন, ‌‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ভিডিও