শেষবারের মতো গোসল করানো হচ্ছিল জঙ্গল সলিমপুরে হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে। শামিয়ানার অল্প দূরে দাঁড়িয়েছিল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা (৯)। চোখ ভেজা, গলা ধরে আসা কান্নায় কাঁপছিল সে। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে একটি শব্দই বের হচ্ছিল— ‘আব্বু, আব্বু’। কিন্তু শামিয়ানার ভেতর থেকে কোনো সাড়া আসছে না। মুনতাহার সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকের চোখ ভিজে ওঠে।
আজ মঙ্গলবার পতেঙ্গার র্যাব-৭ কার্যালয়ের সামনের মাঠে জানাজার পর র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মরদেহ নেওয়া হবে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরের অলিপুরে। তার আগেই স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মেহেদী হাসান, বড় মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে মুনতাহা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে এসে পৌঁছান।
স্বামীর মরদেহ সামনে পেয়ে ভেঙে পড়েন শামসুন্নাহার। আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
ছোট মেয়ে মুনতাহা কান্না থামাতে পারছিল না। সে বলে, ‘আমি আব্বুকে ডাকছি, কিন্তু আব্বু কথা বলছে না। আমার আব্বুকে কেন খুন করা হলো?’
বাবা হত্যার বিচার দাবি করে দশম শ্রেণির ছাত্রী শামিমা জান্নাত বলেন, ‘বাবা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিলেন। এভাবে কেন তাকে মেরে ফেলা হলো?’
নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোতালেবের বড় ছেলে, স্নাতকপড়ুয়া মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ‘বাবার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সব সময় আমাদের পড়াশোনা আর মায়ের খেয়াল রাখতে বলতেন। বাবাকে হারিয়ে আমরা দিশাহারা।’
সোমবার সন্ধ্যায় র্যাবের একটি দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও তিন র্যাব সদস্য, যাঁরা বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে।