চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে খেলাধুলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। বিএনপি কখনো ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীতে এস এ ফ্যামিলি স্পোর্টস এরিনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (পিআরইউ) আয়োজিত ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম মিডিয়া ফুটবল ফেস্ট’র ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে প্রথম রাউন্ডের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। খেলাধুলা শুধু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম— এ বিশ্বাস থেকেই তিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপ আজও বাংলাদেশের খেলাধুলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস।
সেমিফাইনালের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনকে আরও উচ্চশিখরে পৌঁছানো হবে। একটি সুস্থ দেহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (পিআরইউ)-এর আহ্বায়ক হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও সিজেকেএস সাঁতার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান এমি ও জহিরুল ইসলাম জহিরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, মোহাম্মদ আলী, তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, আয়োজক কমিটির সদস্য শেখ সাইদুল ইসলাম ইবেন মীর, নূর হোসেন মামুন, আজীম অনন এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন।
ফুটবল ফেস্টের প্রথম রাউন্ডে আটটি দল অংশগ্রহণ করে। সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয় আবুল হাসনাত মিনহাজের নেতৃত্বে শহীদ মোহাম্মদ ফারুক টিম, সাইফুদ্দিন রমিজের নেতৃত্বে শহীদ মীর মুগ্ধ টিম, রকিবুল আলমের নেতৃত্বে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় টিম এবং আলীউর রহমানের নেতৃত্বে শহীদ তানভীর সিদ্দিকী টিম।
সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালে ওঠে শহীদ তানভীর সিদ্দিকী টিম ও শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় টিম। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল তিনটি করে গোল করলে খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায়। ট্রাইব্রেকারে ৩-১ গোলে জয়ী হয় রকিবুল আলমের নেতৃত্বে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় টিম।