মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনবল সংকট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে পাঁচ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিশেষ কোটায় আবেদন ও নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এই বিশেষ আবেদন প্রক্রিয়া।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবেদনের নথিপত্র গ্রহণ ও যাচাইকরণের বিশেষ সময়সীমা ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার একটি বিশেষ অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নিয়োগকর্তারা ১৬ জানুয়ারি থেকেই নির্দিষ্ট লিঙ্কের (https://que05-my.qbe.ee/KDN-OSC) মাধ্যমে তাদের সাক্ষাতের সময় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করবেন।
সেবা, উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি ও খনি খাতে শর্তসাপেক্ষে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেস্টুরেন্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য ২০২৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এবং কার্গো সেবার ক্ষেত্রে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ‘চেক-আউট মেমো’ থাকতে হবে। নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে সত্যায়িত চেক-আউট মেমো এবং কর্মী মালয়েশিয়া ত্যাগের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
নির্মাণ খাত আবেদন মূল ঠিকাদার বা মনোনীত সাব-কন্ট্রাক্টর করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের নিশ্চিতকরণ পত্র বাধ্যতামূলক।
ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ২০২৩ সালের জানুয়ারির পরে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নতুন বা সম্প্রসারিত প্রকল্পগুলোই কেবল আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
এছাড়া আবেদন ফরম এবং বিস্তারিত যোগ্যতার শর্তাবলি জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের (www.moha.gov.my) ‘Immigration Affairs’ লিঙ্কে ভিজিট করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সরাসরি যোগাযোগের ঠিকানা : ওয়ান স্টপ সেন্টার (OSC), বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ, লেভেল ৫, সেতিয়া পারকাসা ৯, পুত্রজায়া।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সুনির্দিষ্ট কোটা পদ্ধতির ফলে মালয়েশিয়ার প্রধান খাতগুলোতে চলমান কর্মী সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং শ্রমবাজারের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।