সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রাণ ফিরে পেল ‘ডিসি হিল’, নগরবাসীর স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৬

চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল আর ধোঁয়ার ভিড় থেকে নগরীর ডিসি হিল ছুটে আসেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে। কেউ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটতে, ব্যায়াম করতে এখানে চলে আসেন। বিকেলের মিষ্টি রোদে কিংবা সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পাহাড়ের পাদদেশে ছুটে আসেন মানসিক প্রশান্তির খুঁজে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যত্নের অভাবে ধীরে ধীরে নান্দনিকতা হারাতে বসেছিল শহরের এই প্রিয় স্থান। ভাঙাচোরা অবকাঠামো, বিবর্ণ দেয়াল, পর্যাপ্ত আলো না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ— সব মিলিয়ে হতাশা প্রকাশ করতেন নিয়মিত প্রাতভ্রমণে আসা নাগরিকরা।

এই চিত্র বদলাতে উদ্যোগ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পাহাড়ের শীর্ষেই অবস্থিত তার সরকারি বাসভবন থেকে ডিসি হিলের অবহেলিত অবস্থা তার নজরে আসে। সময় নষ্ট না করে তিনি প্রাথমিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে ডিসি হিলকে আরও নান্দনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্র।

প্রাথমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ডিসি হিলের বিভিন্ন অবকাঠামোতে নতুন করে সাদা ও লাল রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জরুরি ভিত্তিতে বসানো হয় ল্যাম্পপোস্ট। আলো-রঙের এই ছোঁয়ায় যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ডিসি হিল।

সময়োপযোগী এই উদ্যোগে ভীষণ খুশি প্রাতভ্রমণে আসা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা ব্যানার টাঙিয়ে জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানান। ‘শতায়ু অঙ্গন’, ‘ইয়োগা প্রভাতি’, ‘প্রভাতী আড্ডা’ ও ‘উজ্জীবন’ নামের সংগঠনগুলোও আলাদা ব্যানারে জানায় শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

ব্যবসায়ী ও ‘ভোরের ডাক’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, ‘আগে ডিসি হিল ভাঙাচোরা ছিল, কোনো রঙ ছিল না। দেখতে বিশ্রী লাগত। এখন রঙ করা হচ্ছে, আলো বসানো হয়েছে— দেখতে সত্যিই সুন্দর লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে নিয়মিত পরিষ্কার হতো না, কুকুর ও ভবঘুরেদের কারণে পরিবেশ নোংরা থাকত। ডিসি সাহেব শুধু জায়গাটা নয়, আমাদের মনকেও আলোকিত করেছেন। এখন অনেক বেশি মানুষ ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটির জন্য এখানে আসছেন।’

প্রাতভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘উজ্জীবন’র সভাপতি মিল্টন ঘোষ বলেন, ‘২০০৪ সাল থেকে আমরা ডিসি হিলে হাঁটছি। এত বছরে কোনো ডিসি এভাবে উদ্যোগ নেননি। তিনি ব্যতিক্রম। প্রশাসনে থেকেও মানুষের মানসিক স্বস্তির বিষয়টি যিনি বুঝেছেন, তাকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

৪২ বছরে পা রাখা প্রাচীন সংগঠন ‘শতায়ু অঙ্গন’র সভাপতি রুস্তম আলী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আগেও অনেক ডিসি ছিলেন, কিন্তু কেউ করেননি। এই ডিসি করেছেন।’

ভিডিও