চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগে গেজেটভুক্ত নয়জন জুলাইযোদ্ধাকে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে। তবে তাদেরকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি নয়জন জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়। ওই তারিখে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত একটি দপ্তরাদেশ প্রকাশিত হয়। যা ১৩ জানুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসন বিভাগ, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ, নৌ প্রকৌশল বিভাগ, নৌ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, অর্থ ও হিসাব বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগে পদায়ন করা হয়। তারা ওইসব বিভাগে ‘প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী’ পদে কাজ করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- আরবি মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মো. মেহেরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মো. আমির হোসেন ও মো. ইব্রাহীম। এরমধ্যে মিরাজ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা, সাকিল বোয়ালখালী উপজেলা, মেহেরাজ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের, মাহবুবুল, শেফাতুল, সাইফুল ও তারেক চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা, আমির নোয়াখালীর সেনবাগ ও ইব্রাহীম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এক বছরের জন্য তাদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী বন্দরে স্থায়ী পদে নিয়োগ দিতে হলে প্রথমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করেন এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি একটি নিয়োগের বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে এ নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরওয়ার আলম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, তারা বৈষম্য দূর করার কথা বলে আন্দোলন করলেও তারাই এখন কোটায় চাকরি পেয়েছে, এতে মেধাবীদের পরিশ্রমের মূল্য কোথায় গেল—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কিশোর দত্ত লিখেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ ভাবছে না। শেখ ফাতেহ এলাহী প্রশ্ন তুলেছেন, এই নিয়োগ নীতিমালা আসলে কে সমর্থন করে?
এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে করা হচ্ছে নানা রকম মন্তব্য।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো.ওমর ফারুক বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এগুলো রাজস্ব খাতের কোনো পদ না। আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী তারা বেতন পাবেন।