সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করার প্রত্যয় আবু সুফিয়ানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ক্ষমতাকে ভোগের বিষয় নয় বরং জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত হিসেবে ধারণ করবো। মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা— ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর জামাল খানস্থ দাওয়াত রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। জনগণ এখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার অপেক্ষায় রয়েছে। মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, অতীতে যারা ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় গিয়েছিল তারা জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা অপরিসীম। সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করা হবে। বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের অধিকার রক্ষায় আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসিত জীবন থেকেও একটি নিরাপদ, বৈষম্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাওয়া একটি মহল এসব সহিংসতায় জড়িত বলে তিনি মনে করেন।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, একসময় নির্বাচন ছিল উৎসবের মতো। কিন্তু বিগত সরকার ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল। সেই কালো অধ্যায় পেরিয়ে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

ভিডিও