সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বৈধ প্রার্থী ১০২, মনোনয়ন বাতিল ৪১ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৯

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১০২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে ৪১টি। রোববার মনোনয়পত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির প্রার্থীসহ ১৬ জনের মনোনয়পত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা।

এদিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮ থেকে ১০ নম্বর আসন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩ থেকে ১৬ নম্বর সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ১৪৩ জনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৪১টি বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ বলেন, তাদের কার্যালয়ে রোববার চট্টগ্রাম নগরীর ৮ থেকে ১০ নম্বর আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। এই তিন আসনে জমা দেওয়া ৩২ জনের মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১১টি বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হাসান হাসান বলেন, তাদের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম জেলার ১৩ থেকে ১৫ নম্বর- এই তিন আসনে ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে পাঁচটি মনোনয়নপত্র।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হল
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে সাতজনের মধ্যে সিপিবির মো. সেহাব উদ্দীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্রপত্র বাতিল হয়েছে।

সেহাব উদ্দীনের জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে কমিশনে জমা দেয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর না মেলায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রামের ‘মর্যাদাপূর্ণ’ আসন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি ও বাকলিয়া) আসনের আটজনের মধ্যে জামায়াতের প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

জামায়াতের এ কে এম ফজলুল হকের বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও তার নাগরিকত্ব আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর ও আয়কর রিটার্নের কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ, সিটি করপোরেশনের বিল বকেয়া এবং শিক্ষা সনদের মিল না থাকায় নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১১ জনের মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিলা করা হয়েছে।

হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের মো. আলী ওসমান, ভুল কোডে জামানতের টাকা জমা দেওয়ায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ফরম-১১ যথাযথ পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী, মো. ওমর ইউসুফ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে দলীয় মনোনয়ন ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দেওয়া এবং নিজেই নিজের প্রস্তাবক হওয়ায় আলী আব্বাস এবং ঋণ খেলাপি হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সাতজন।

চট্টগ্রাম- ১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে নয়জনের এক শতাংশ ভোটারের সত্যতা না পাওয়ায় দুই স্বতন্ত্র মিজানুল হক চৌধুরী ও নুরুল আনোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অপর সাতজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) এ আসনে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

যাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে তারা প্রত্যেকে আপিলের সুযোগ পাবেন। সোমবার থেকে আপিল করা যাবে, চলবে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির সময় নয় দিন, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।

ভিডিও