চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় দেওয়ানবাজারস্থ চট্টগ্রাম মহানগরীর কার্যালয়ে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদ শরিফ উসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের এক ক্ষণজন্মা নেতৃত্ব। মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে তাঁর সাহসী ও আগুনঝরা বক্তব্য দেশের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্তকে নাড়া দিয়েছে। চব্বিশের জুলাই শহিদদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, ফ্যাসিস্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দিতে গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পরপরই প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দেড় মাস পার হলেও চিহ্নিত খুনিচক্র গ্রেপ্তার না হওয়া, খুনিদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং একের পর এক গুপ্ত হত্যাকাণ্ড দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, শহীদ হাদির হত্যাকারীদের বিচার, দেশব্যাপী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি শনিবার ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য এই মহাসমাবেশ সফল করতে চট্টগ্রামবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ শরিফ উসমান হাদির খুনিচক্রসহ চোরাগুপ্তা হামলাকারী সন্ত্রাসী চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচন বানচাল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার সব ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে।
অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরী মজলিসে শূরার সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান ও এস এম লুৎফর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন এবং ড. আব্দুল মোতালেব।
এ সময় মহানগরী মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহের, প্রফেসর ড. মাওলানা সাইয়েদ আবু মুহাম্মদ নোমান, অধ্যাপক লিয়াকত আকতার সিদ্দিকী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, আমির হোছাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, মাহমুদুল আলম, ফখরে জাহান সিরাজী, ড. মাহবুবুর রহমান, ফারুকে আজমসহ মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিসেস ফরিদা খানম, সহকারী সেক্রেটারি মিসেস হাসিনা ইয়াসমিন রীনা, মিসেস আয়েশা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা মিসেস শিরিন জাহানসহ মহিলা মজলিসে শূরার সদস্যবৃন্দ।