রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিদ্যুৎহীন রাঙামাটির ১৩ ইউনিয়ন, অন্ধকারে লক্ষাধিক মানুষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩২

আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা পার্বত্য রাঙামাটি। ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের যাত্রা শুরু হলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জেলার ১৩টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এখনো বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এমনকি রাঙামাটি সদর উপজেলার আওতাধীন তিনটি ইউনিয়নেও পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো। কাপ্তাই হ্রদের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব ইউনিয়ন হলো—জীবতলী, বন্দুকভাঙা ও বালুখালী।

বিদ্যুৎবিহীন অন্যান্য ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা, বগাচত্ত্বর ও ভাসান্যাদম; বরকল উপজেলার সুবলং, আইমাছড়া, ভূষণছড়া ও বড় হরিনা; বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ও বড়থলী এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়ন। সব মিলিয়ে রাঙামাটির মোট ১৩টি ইউনিয়ন এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে।

লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের চাইল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক বলেন, বছরের বড় একটি সময় তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কষ্ট পায়। বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার পানি সরবরাহ, ল্যাপটপ চার্জ কিংবা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দুর্গম বরকল উপজেলায় জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কাপ্তাই হ্রদ। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কয়েক বছর আগে উপজেলা সদরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও সুবলং, আইমাছড়া, ভূষণছড়া ও বড় হরিনা ইউনিয়ন এখনো অন্ধকারে রয়েছে। জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলাতেও প্রায় একই চিত্র।

বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী বড় হরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা জানান, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এবং কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। তবে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ হওয়ায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী, কাউখালী ও নানিয়ারচর উপজেলার সব ইউনিয়নে বিদ্যুৎ থাকলেও কয়েকটি এলাকায় আংশিক সরবরাহ রয়েছে।

রাঙামাটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বিতরণ বিভাগ। বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে বিপিডিবি রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়কের অভাব ও জনবল সংকট বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় বাধা। তবে তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিডিও