রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিলুপ্তির পথে বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী কালোজিরা ধান চাষ

বোয়ালখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০৫

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কালোজিরা ধানের আবাদ। একসময় উপজেলার কৃষকেরা আমন মৌসুমে অন্যান্য দেশি ধানের পাশাপাশি সুগন্ধিযুক্ত কালোজিরা ধানও চাষ করতেন। কিন্তু খরচ বেশি, ফলন কম, বীজের সংকট ও উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় কৃষকেরা এই ঐতিহ্যবাহী জাতের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বুধবার বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে— সর্বত্র উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ। কালোজিরা ধানের চাষ প্রায় নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক সীমিত পরিসরে এখনো এই ধান চাষ করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সারোয়াতলীর নুরুল আলম, করলডেঙ্গার কাওসার এবং পোপাদিয়ার কৃষক আনোয়ার।

কৃষক নুরুল আলম বলেন, ‘একসময় প্রতিটি কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য ছিলো সুগন্ধিযুক্ত কালোজিরা, বিন্নী, কাশিয়াবিন্নি, সরুসহ দেশি ধান। নবান্নের উৎসব থেকে শুরু করে পিঠা-পুলি, পোলাও-বিরিয়ানি— সবকিছুর মূল উপাদান ছিল এই সুগন্ধি চাল। এখন এগুলো শুধু স্মৃতি।’

কৃষকেরা জানান, কানিপ্রতি অন্যান্য জাতের ধানে যেখানে ৮০–১০০ আড়ি ফলন হয়, সেখানে কালোজিরা ধানে সর্বোচ্চ ৩০ আড়ি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তবে বাজারমূল্য দ্বিগুণ— প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে এখন আর এই ধান পাওয়া যায় না। তবুও গ্রামের গৃহস্থ পরিবারের মধ্যে কালোজিরা ধানের চাহিদা এখনও আছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ বছর আগেও বোয়ালখালীতে ২৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরা ধানের চাষ হতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ হেক্টরে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন ধান এখন বেশি জনপ্রিয়। এসব ধানে ফলন বেশি, রোগ-পোকার আক্রমণ কম। তুলনামূলক ফলন কম হওয়ায় কৃষকেরা কালোজিরা ধান চাষ থেকে সরে আসছেন। তবে বাজারদর বেশি হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এ ধান চাষে আগ্রহ কমছে।’

কৃষকেরা মনে করেন, সরকারিভাবে প্রদর্শনী, বীজ সহায়তা এবং উৎসাহ দেওয়া হলে বিলুপ্তির পথে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী কালোজিরা ধান আবারও মাঠে ফিরতে পারে।

ভিডিও