রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিজ্ঞাপন না পেয়ে ভয়ংকর অপপ্রচার, ৬ পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৬

বিজ্ঞাপন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চট্টগ্রামে ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে ফেঁসে গেছেন চারটি আঞ্চলিক পত্রিকাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬টি মিডিয়া কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশিত সংবাদের ভেতরের সব তথ্য হুবুহু অভিন্ন রেখে শুধু শিরোনাম পাল্টে নভেম্বর মাসে সংস্থাটির বিরুদ্ধে এমন ভুয়া নিউজ প্রকাশ করে দি ডেইলি কমার্শিয়াল টাইমস, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, দৈনিক সমর, দি ডেইলি পিপলস ভিউ, দৈনিক আমাদের বাংলা ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনায় অবিলম্বে ভুয়া সংবাদটি প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ সংস্থার কর্নধার মোহাম্মদ ওয়াজেদ।

গতকাল ৯ ডিসেম্বর বিকেলে আইনজীবী মুহাম্মদ নাঈম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই আইনগত নোটিশটি পাঠান তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকার অফিসের কাছে। এতে সংস্থাটির কর্নধার মোহাম্মদ ওয়াজেদ আগামি ৭ দিনের ভেতর উল্লেখিত পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত ভুয়া সংবাদটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী মামলা দায়ের করবেন বলে উল্লেখ করেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, সংবাদটিতে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র (নিউজ) সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের বরাত দিয়ে একটি চক্র ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, কল্পনা প্রসূত অসত্য তথ্য, বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।

সংবাদটিতে-অর্থঋন আদালত-১ এর মাননীয় বিচারক যুগ্ম জেলা জজ হেলাল উদ্দীনের বরাত দিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট এবং আদালত অবমাননার।

সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘ওয়াজেদ কাজীর দেউড়ির কর্ণফুলী টাওয়ারে বসে একটি ত্রাসের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল-যেখানে নকল বিজ্ঞাপন বিল তৈরি, নিলাম নোটিশের বিল বাড়িয়ে তৈরি, আদালতের নোটিশে জাল স্বাক্ষর তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচুর টাকা তুলত।’— কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে এই ধরনের বক্তব্য প্রচার শুধু মানহানিকর নয়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ীও অপরাধ।

এছাড়া আদালত কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ, কোটি টাকার প্রতারণা, জাল ইনভয়েস, নকল স্বাক্ষর, সিন্ডিকেট চালানো, ভয়ভীতি দেখানোসহ যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে— তা ‘আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করা হয় নোটিশে। সংবাদ প্রকাশের আগে মন্তব্য না নেওয়াকে ‘সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিনৈতিকতার লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনের একটি অংশে ওয়াজেদকে কখনও আওয়ামী লীগ সমর্থক, কখনও জামায়াতপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে— যা নোটিশে ‘মিথ্যা রাজনৈতিক অলংকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীর সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগকেও ‘হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ কর্ণধার মোহাম্মদ ওয়াজেদ বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান ‘বিজ্ঞাপন বাজার’কে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অসত্য, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করেছে। কোনো প্রকার তথ্য–প্রমাণ ছাড়াই এমন অপপ্রচার শুধু অনৈতিক নয়, সাইবার সুরক্ষা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পত্রিকাসমূহকে অবিলম্বে ভুয়া সংবাদ প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ভিডিও