চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সিংহের বাড়ি এলাকায় একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে পরিকল্পিত ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র তালা ও দরজার হুক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পটিয়া থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রীনা সেন (৬৮), স্বামী প্রয়াত বাদল সেন। কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহের বাড়ি এলাকায় তিনি একাই বসবাস করতেন। গত ২৫ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে তিনি পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়ির সব দরজা–জানালা বন্ধ করে চট্টগ্রাম শহরে মেয়ের বাসায় যান। প্রায় ১২ দিন পর ৮ ডিসেম্বর বিকালে বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন প্রধান ফটকের তালা ও হুক কাটা, ভেতরে চুরির স্পষ্ট আলামত।
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, আসবাবপত্র তছনছ, আলমারি ভাঙা এবং মালামাল লুট করা। চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৮ হাজার টাকা, ১ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ২ আনা ওজনের দুই জোড়া কানের দুল, কাপড়-চোপড়, দুটি বিদেশি কম্বল, দুটি চার্জ লাইট, একটি টর্চ লাইট, প্রায় ৩০ হাজার টাকার গৃহস্থালি সামগ্রী এবং রান্নাঘরের ২৫ কেজি চালের বস্তা। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রীনা সেন জানান, তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে ২৫ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাস্থলের অবস্থা দেখে স্থানীয়দের ধারণা— এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয় এবং পরে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চুরি–ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পটিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে, শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।