রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পটিয়ায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকবিহীন, শিক্ষা কার্যক্রমে ধস

পটিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৫

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৫৮টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। অবসর, বদলি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে, যার ফলে পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে সংকট বেশি প্রকট। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধা অনুসারে শিক্ষকরা শহরসংলগ্ন বিদ্যালয়ে বদলি হতে আগ্রহী হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট ক্রমেই বেড়েছে।

খরনা ইউনিয়নের লালারখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই সংকটের একটি বাস্তব উদাহরণ। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক মাত্র ৫ জন। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায়, কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে ক্লাস কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন, প্রশাসনিক কাজের চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া সীমিত।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির পটিয়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দীন বলেন, দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে সংকট দূর করা সম্ভব। সরকার চাইলে অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান আনা যায়।

উপজেলায় প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে কেলিশহরের রতনপুর দিঘীরপাড়, মৈতলা, গোয়ালপাড়া; হাইদগাঁওয়ের দক্ষিণ হাইদগাঁও, হাইদগাঁও চৌধুরীপাড়া, এজেডএস; কচুয়াইয়ের শ্রীমাই ও সীতাবিধু; পাশাপাশি পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী ও উত্তর গোবিন্দারখিল এবং পশ্চিম পটিয়ার জিরি ও মেহেরআটি বিদ্যালয়।

পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিত কর্মকার জানান, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের শুরুতে নতুন নিয়োগ হলে সংকট অনেকটাই কাটবে।

ভিডিও