রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাঁশখালীর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

মনোনয়ন পাননি, তবুও মাঠে বাঁশখালীর লিয়াকত

বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৬

চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পরও তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন এবং ইতোমধ্যে গণসংযোগে ব্যাপক জনসাড়া পাচ্ছেন।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপির ঘোষিত প্রথম ধাপের মনোনয়ন তালিকায় বাঁশখালী আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নাম। এ তালিকায় জায়গা না পেয়ে হতাশ হন লিয়াকত আলী ও তাঁর সমর্থকেরা। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিভিন্ন ইউনিয়নে মশাল মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে তাঁরা।

গত ২২ নভেম্বর জলদী পাইলট হাইস্কুল মাঠে লিয়াকত সমর্থকদের উদ্যোগে বিশাল জনসভায় জনতার ঢল নামে। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জনমত জানতে চান। উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলেই সমর্থন জানালে তিনি ঘোষণা দেন—নির্বাচনে থেকে লড়াই করবেন।

৪ ডিসেম্বর বিএনপির দ্বিতীয় দফার মনোনয়ন তালিকাতেও বাঁশখালীতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত না থাকায় তিনি আরও দৃঢ় হন মাঠে থাকার বিষয়ে। এরপর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওবার্তা দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তিনি।

ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর হযরত হোসাইন শাহ্ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে বাহারচড়া ইলশা ও মাইজপাড়া এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এসব এলাকায় স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম ও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত লিয়াকত আলী নির্বাচনে থাকবেন কি না— এ নিয়ে শঙ্কাও আছে। বাঁশখালী বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বক্তব্য— মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত হয়তো মাঠে থাকবেন না। অন্যদিকে আরও অনেকে মনে করেন দলের কঠিন সময়ে লিয়াকত আলীর ভূমিকা, শ্রম ও ত্যাগ উপেক্ষা করা যায় না, তাই তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।

লিয়াকত আলীর সমর্থক বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ‘১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন লিয়াকত ভাই। অসংখ্য মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন। তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন না করে দল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে।’

তারা আরও জানান, গণসংযোগে লিয়াকত আলী যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই মিলছে ব্যাপক জনসাড়া। স্থানীয় জনতাও তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

নিজের ফেসবুক ভিডিওবার্তায় লিয়াকত আলী বলেন, ‘দল আমাকে লাথি মেরে ফেললেও বাঁশখালীর মানুষ আমাকে বুকে টেনে নেবে। জনগণ আমাকে চায়, তাঁদের সাথে ছিলাম-আছি-থাকবো। আমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা কেউ মুছতে পারবে না।’

বাঁশখালী বিএনপির কয়েকজন প্রবীণ নেতার ভাষ্য, লিয়াকত আলীর ত্যাগ যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি তাঁর জনসমর্থন উপেক্ষা করার সুযোগও নেই। এখন দেখার বিষয়, বাঁশখালী আসনে বিএনপি মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নির্বিশেষে লিয়াকত আলী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই কতদূর নিয়ে যান।

ভিডিও