সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘রেলে ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে’— চট্টগ্রামে ক্ষোভ ঝাড়লেন উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২০

রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, দেশে রেল খাতে ‘ভয়ংকর দুর্নীতি’ হয়েছে। গুরুত্বহীন প্রকল্প গ্রহণ, প্রকল্প পরিচালক পদ সৃষ্টি এবং অযোগ্যতা ও অনিয়মের কারণেই রেলের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার লাইন, চট্টগ্রাম–দোহাজারী লাইনসহ নানা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। কোচ নেই, লোকোমোটিভ নেই— সব কিছুর পেছনে গেঁথে রয়েছে দুর্নীতি।’

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে নগরের আগ্রাবাদের সড়ক ভবনে সড়ক বিভাগ ও রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু ৮ লেন থেকে ১০ লেনে উন্নীত করলেই যানজট কমবে— এই ধারণা ভুল। সড়কের চাপ কমাতে মাল্টিমডেল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ২০ শতাংশ পণ্য ও যাত্রীকে রেল ও নৌপথে স্থানান্তর করতে হবে। সড়ক বড় করলেই যানবাহন বৃদ্ধি পায়, ফলে লাভ হয় না।’

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ খাতকে আর এককভাবে দেখা হবে না। রোড, রেললাইন, ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে— সব একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে।’

উপদেষ্টা ফরমায়েশী প্রকল্প ও রাজনৈতিক প্রভাবিত রাস্তার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘নানার বাড়ি পিঠা খেতে যাওয়ার জন্য রাস্তা করার যুগ শেষ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর কোনো রাস্তা হবে না।’

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কিশোরগঞ্জের ইটনা–মিঠামইনে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা করেছেন, যা পরিবেশ ও কৃষিতে ক্ষতি করেছে, অথচ সেখানে কোনো গাড়িই চলে না। “এই ধরনের বিনিয়োগ রাষ্ট্রের টাকা অপচয় ছাড়া কিছু নয়।’

একইসঙ্গে সন্দ্বীপের একজনের অনুরোধের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার বাড়ি সেখানে বলে রাস্তা করে দেব— এটা হবে না। গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।’

নতুন কালুরঘাট সেতুর কাজ এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের নদীগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই নদী শাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।’

মাতারবাড়িতে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ব্যয় ৪৭৬ কোটি টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা এ ধরনের ব্যয় বহন করতে পারব না। যেটা ইপোর্ট (সমর্থন) করতে পারব, সেটাই করা হবে।’

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো— সবক্ষেত্রে বাজেটের উপযোগী ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘একই টাকা দিয়ে আমরা হাসপাতালও করতে পারি, রাস্তা-ও করতে পারি। কোনটি বেশি কার্যকর, তা ভেবেই সিদ্ধান্ত হবে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘৩৭৫ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছি। এখন ১২০০ কোটি বা ২ হাজার কোটি টাকা আমরা হালকাভাবে নেব না। জমিদারির চিন্তা বাদ দিয়ে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

ভিডিও