আগামীকাল আপিল শুনানিতে ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে মঙ্গলবার তাদের প্রার্থিতার এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত গত ২৮ এপ্রিল এই আদেশ দেন।
জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাদের ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। আর হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পান চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর।
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সারোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তারা এ আবেদন করেন।
জামায়াতের ওই দুই প্রার্থীর করা পৃথক লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। পৃথক আদেশে বলা হয়, যদি আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হয়ে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে ।
আদালতে চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, তিনি স্টেট ব্যাংক ইন্ডিয়া, ব্যাংক এশিয়া, জনতা ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ইতোমধ্যে রিশিডিউল করেছেন। তাই আশা করছি আদালত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে।
তবে জামায়াতের প্রার্থীদের আইনজীবীরা জানান, নির্বাচন কমিশনের আরপিও অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন প্রার্থীদের ঋণখেলাপির অবস্থা কী ছিল সেটিই দেখার বিষয়। আর আসলাম চৌধুরী সর্বশেষ তথ্য অনুসারে মাত্র দশমিক পাঁচ শতাংশ ঋণ রিশিডিউল করেছেন। কিন্তু নিয়ম রয়েছে তা অন্তত দুই শতাংশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মো. আসলাম চৌধুরী বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও তাদের এ ফলাফল এখনো গেজেটভুক্ত হয়নি।