টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে জেলা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক মাইকিং ও প্রচারণা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত বাড়লে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি পৌরসভা সমন্বিতভাবে শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বৃষ্টি শুরু হলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় একশোর বেশি এলাকা পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগে এসব এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই বসবাস করছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী জানান, পাহাড় ধসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটি পাহাড় ধসে পাঁচজন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর ২০১৮ সালে নানিয়ারচর এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাইয়েও পৃথক পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।