চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে প্রকল্পের চলমান কাজগুলো সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার সাথে ছিলেন। সরকারের দুই প্রতিনিধি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চলমান রেগুলেটর নির্মাণ, খাল খনন ও সংস্কার, নালা সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন। এসময় সিটি কর্পোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে তাঁরা আগ্রাবাদ বন্দর এলাকায় কর্ণফুলী নদীর মুখে নির্মিত মহেশ খালের রেগুলেটর পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে মহেশ খালের পাড় বেয়ে কুমার খালে নির্মিত রেগুলেটর দেখতে যান। পরবর্তীতে তাঁরা নগরীর আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিং মোড় এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদীর পাড় হয়ে কোতোয়ালি মোড়ে আসেন। কোতোয়ালি মোড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজার মেরিনড্রাইভ রোড হয়ে মরিয়ম বিবি খাল, কলাবাগিচা, টেকপাড়া, চাক্তাই খাল ও রাজাখালী খাল পরিদর্শন করেন। এসব খালের সংস্কার কাজ দেখে প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সেখানে থেকে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়রের গাড়ির বহর শাহ আমানত সেতু হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড় সংলগ্ন চাক্তাই ডারভারশন খাল ও চাক্তাই খাল এলাকা পরিদর্শন করেন।

সেখান থেকে চন্দনপুরা হয়ে চকবাজার ফুলতলা ব্রিজস্থ হিজড়া খাল এলাকা পরিদর্শন করেন। তারপর কাপাসগোলায় হিজড়া খালের সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন। কাপাসগোলা থেকে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র কাতালগঞ্জ হয়ে প্রবর্তক মোড়স্থ হিজড়া খাল এলাকা ও বড় নালার সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০-৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, চলমান খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে কিছু জায়গায় পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হলেও দ্রুত তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই খালের বাঁধগুলো সরিয়ে পানি প্রবাহ সচল করা হবে। বর্ষার পর পুনরায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
মেয়র বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি যুক্ত করতে আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোথায় ময়লা জমেছে, কোথায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই বা কোথায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে, এসব তথ্য নাগরিকরা সরাসরি জানাতে পারবেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরী।
পূর্বতারা/ইউডি