পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. নাজিম। ফ্ল্যাট কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তিনি স্ত্রী আশরেফা জাহানকে প্রায়শ নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে ২০২০ সালে আশরেফা স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা টুকে দেন। পাঁচ বছর পর সেই মামলার রায় দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট (সাময়িক বরখাস্ত) মো. নাজিমকে এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোশতাক আহমেদ এ রায় দেন।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আদালত আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। আপিল করার শর্তে আদালত তাঁকে জামিন দেন। মামলা চলাকালে নাজিম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয় বলেও জানান তিনি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৯ জানুয়ারি ট্রাফিক সার্জেন্ট নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে আশরেফা জাহানের বিয়ে হয়। নাজিমের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং আশরেফা জাহানের বাড়ি লালমনিরহাটে। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান এলাকায় বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁরা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফ্ল্যাট কিনতে স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন নাজিম। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় ২০২০ সালের মার্চ ও জুনের বিভিন্ন তারিখে স্ত্রীকে মারধর করেন তিনি। ওই বছরের ১৭ আগস্ট স্ত্রী আশরেফা জাহান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দেয়। ৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন।
পূর্বতারা/ইউডি