শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

হাম নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় চট্টগ্রামের অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:০০

হাসপাতালের সারি সারি বেডে শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে শিশুরা। জ্বর, কাশি ও শরীরে র‍্যাশসহ নানা সমস্যায় ভুগছে বেশিরভাগ শিশু। সময়ের সঙ্গে যেমন রোগীর চাপ বাড়ছে, তেমনি আসছে মৃত্যুর খবরও। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন অভিভাবকরা। তবে সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭ জনের হাম ও ১ জনের মধ্যে রুবেলার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হামের লক্ষণ নিয়ে ২৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আর ৯১ জন হামের লক্ষণযুক্ত রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। কক্সবাজার থেকে আসা হামে আক্রান্ত শিশুটির বয়স ছয় মাসের কম ছিলো।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক শিশুর অভিভাবক মো. আবুল কালাম বলেন, প্রথমে বাচ্চার জ্বর ছিল, পরে শরীরে লাল গুটি উঠতে শুরু করে। এখন চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। খুব চিন্তা হচ্ছে। ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেই স্বস্তি মিলবে।

আরেক অভিভাবক রোকসানা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে রাখছি। আগে জ্বর ছিল, পরে র‍্যাশ দেখা দেয়। ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন, পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে একটু ভালো হলে বাসায় নেওয়া হয়, আবার ফলোআপে আসতে হয়। বাচ্চাকে নিয়ে পরিবারের সবাই টেনশনে আছে। এখন আরও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

হাম নিয়ে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিভাবকরাই নন, সুস্থ শিশুদের অভিভাবকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। সংক্রমণের আশঙ্কায় অনেকেই সন্তানদের নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মানছেন এবং অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া সীমিত করছেন।

নগরীর মুরাদপুর এলাকার চাকরিজীবী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তান এখন সুস্থ আছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে চারপাশে হাম রোগীর খবর শুনে আমরা সতর্ক আছি। ভিড় এড়িয়ে চলি, বাইরে কম বের করি। যাতে সংক্রমণ না হয়, সেদিকেই বেশি খেয়াল রাখছি।

নাজমা আক্তার নামে মিরসরাইয়ের এক স্কুল-শিক্ষিকা বলেন, আমার বাচ্চা এখনো আক্রান্ত হয়নি, কিন্তু ভয় তো কাজ করছেই। সন্তানকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের সাবধানতা নিচ্ছি।

এদিকে হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পুষ্টিকর খবার সরবরাহ ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেলায়াত হোসেন বলেন, যেসব রোগী উপসর্গ নিয়ে আসছে, তাদের আমরা অধিক সতর্কতার জন্য পৃথকভাবে রেখে দিচ্ছি। কারণ হাম সংক্রামক রোগ। যদি নিশ্চিত না হয়ে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়, তাহলে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইসোলেশন বা পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে হাম শনাক্ত হয়েছে, তবে সব রোগীই হাম আক্রান্ত নয়। সতর্কতার অংশ হিসেবেই তাদের আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন ছাড়া হামের তেমন কোনো প্রতিষেধক নেই এ রোগের। যেসব শিশু নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ খায় এবং ভিটামিন ‘এ‘ ঘাটতি নেই তাদের হাম হওয়ার সম্ভাবনা কম। হাম প্রতিরোধের জন্য শিশুদের অপুষ্টি রোধ করা জরুরি।

ভিডিও