বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ক্ষুর–ব্লেড দিয়ে চাকসু নেতাকে জখম

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাকে ক্ষুর ও ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় তার গলার রগ কাটারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে হাটহাজারী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় তিনি সমঝোতার দায়িত্বে ছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে টার্গেট করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তার দাবি। তিনি বলেন, সমঝোতা করানোর কারণে তারা আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে।

চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান বলেন, মাসুম বাইকে তেল নিতে হাটহাজারীতে গেলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে। পরে রাস্তা আটকিয়ে মারধর করে এবং ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে। তার সঙ্গে থাকা ভাগিনাকেও মারধর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে দুজন এর আগে ক্যাম্পাসে বেপরোয়া বাইক চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আহত করেছিল। ওই ঘটনার সমঝোতায় মাসুম জড়িত থাকায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত অবস্থায় মাসুমকে কয়েকজন মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার চোখের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মেডিকেলে খোঁজ নিতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ মো. আরিফুল ইসলাম নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত করেন। এ ঘটনায় মাসুম বিল্লাহ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমঝোতা করেন। সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

ভিডিও