চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের পরীক্ষা সূচিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পতিত শেখ হাসিনার বন্দনা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি ড. রকীবা নবী স্বাক্ষরিত ২য় বর্ষ স্নাতকের (সম্মান) এক পরীক্ষা সূচির বিজ্ঞপ্তিতে এই লিখা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির একদম ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর নিচে লিখা রয়েছে—‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আপনি বিভাগ থেকে তথ্য নেন। বিভাগের চেয়ারম্যান আপনাকে ভালো বলতে পারবেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. রকীবা নবীর সাথে বেলা ৪টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার ১৪ সেকেন্ডের মাথায় ফোন রেখে দেন তিনি। এরপর একাধিকবার ফোন দিলেও আর মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগের প্রধান ড. রকিবা নবী নিজেই একজন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। এর আগে তিনি আইন বিভাগের ডিন ড. জাফরুল্লাহ তালুকদারের সাথে যোগসাজশ করে জুলাইবিরোধী নৃশংস আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষক রোমান শুভকে হল গার্ড দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছিল।
এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে যে-সকল শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে শিক্ষকদের মাঝে যারা অপরাধে যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে এটি সবার নজরে আসার কথা। এটি তিনি ইচ্ছে করেই করেছেন। বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক সমিতির নামে আওয়ামী দোসরদের নরমালাইজ করার চেষ্টা করছে। দোসরদের পাশে বসিয়ে নতুন উপাচার্য সভা করেন।
এদিকে এমন ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি। তিনি বলেন, সকাল থেকে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শেখ হাসিনার যে কুকর্ম, এটা সবাই জানে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত এমন ঘটনাকে আমরা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। ঘটনাটি ইতোমধ্যে আমাদের চাকসুর জিএস উপাচার্যকে জানিয়েছেন। আমরা সশরীরে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে কথা বলব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, বর্তমানে আমি একটি সভায় আছি। আমার হোয়াটসঅ্যাপে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান, দেখি। এরপর এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।