শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত ২ শিশু, অধিকাংশ নিউমোনিয়ার রোগী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৬

সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত, হামে নয়। এ পর্যন্ত জেলায় ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুইজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। মাত্র একজনের ক্ষেত্রে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি একজনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চমেক হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে ২৫ জন শিশু ভর্তি আছে। মহানগর এবং ১৫টি উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নেগেটিভ এবং দুজন শিশুর হাম পজেটিভ এসেছে।

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি বলে নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, হাম আক্রান্ত দুই শিশুর মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে।

চট্টগ্রামে হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা সঠিক নয়। তবে গত কয়েকদিনে সন্দেহভাজন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মত শিশু মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন মা ও শিশু হাসপাতালে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

এদিকে সকালে চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের মিজেলস ব্লক পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও চট্টগ্রামে এখনো তা বড় আকার নেয়নি। সম্প্রতি যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা মূলত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছেন। সরাসরি হামের কারণে নয়।

তিনি জানান, জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ হলেই তা হাম ধরে নেওয়া ঠিক নয়; অধিকাংশ শিশু শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ২০ শয্যার নিউনেটাল আইসিইউ এবং পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি অন্যান্য টিকাও দেওয়া হচ্ছে এবং টিকার কোনো ঘাটতি নেই।

এর আগে, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, ২৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন রোগী সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব রোগীর নমুনা সংগ্রহপূর্বক রোগ নির্ণয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনও তথ্য দপ্তরে নথিভুক্ত হয়নি। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বার্তার পর চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়। প্রথমটি ৯ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। তবে টিকা দেওয়ার বয়স না হওয়ায় ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও