আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলায় ভোটের মাঠে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি— এমনটাই মত দিচ্ছেন স্থানীয় ভোটাররা। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১০টিতে বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জামায়াত ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি কয়েকটি আসনে ভোটের হিসাব জটিল করে তুলেছে।
জেলাজুড়ে বিএনপি প্রতিটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে ১৩টি আসনে এবং বাকি ৩টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটসঙ্গীদের। যদিও চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোটসঙ্গীর পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থীও ভোটে থাকায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত।
অন্যদিকে জামায়াত ২টি আসনে এবং জোটসঙ্গী এলডিপি ১টি আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা ভোটারদের। তবে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের কালীপুর এলাকার ভোটার আবদুল করিম বলেন, ‘এবার আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এখানে বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’
চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি। অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ এবারও ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে বলে আমরা আশাবাদী।’
তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘১৬টি আসনেই আমরা জয়ের প্রত্যয় নিয়ে মাঠে কাজ করছি। চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।’
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম জেলার ভোটের মাঠে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভূমিকা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।