চট্টগ্রামে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১১৯টি মোবাইল টিম ও ৩০টি স্ট্রাইকিং পার্টিকে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ১৭টি থানার সকল অফিসার ইনচার্জসহ সিনিয়র কর্মকর্তাগণ রিয়েল-টাইমে প্রতিটি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং পার্টির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জেলা পুলিশের স্থাপিত সমন্বিত ‘অপারেশন্স কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল রুম’র আওতায় এসব প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অবস্থিত কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে একটি সমন্বিত অপারেশন্স কমান্ড ও কন্ট্রোল কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বডিওর্ন ক্যামেরা ওয়ার্ক স্টেশন, লাইভ লোকেশন মনিটরিং সিস্টেম এবং ডিজিটাল অপারেশনাল ম্যাপের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের ব্যবহৃত ৪৬৯টি বডিওর্ন ক্যামেরা অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি এসব ক্যামেরার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
ডিজিটাল অপারেশনাল ম্যাপে জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মোট ১ হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রের অবস্থান (লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণি) চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে ভোটকেন্দ্রের নাম, অবস্থান, ঝুঁকির মাত্রা, প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট থানার দূরত্বের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে ওয়াকিটকি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের লাইভ লোকেশন পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জরুরি সমন্বয়ের জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কন্ট্রোল রুম থেকে নির্বাচন কার্যক্রম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।