রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারী হয়েও আত্মবিশ্বাসী ওরা পাঁচজন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৫

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এবার পাঁচ নারী প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তবে সংখ্যায় নগণ্য হলেও পুরুষ প্রার্থীদের সাথে সমানতালে তারা লড়ে যাচ্ছে। নারী হয়েও স্ব স্ব আসন এলাকায় নির্ঘুম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নারীর প্রতিবন্ধকতা দূর, নারীর অধিকার আদায় ও নারীর প্রতি মমতার সংকল্প বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী এই পাঁচ নারী।

চট্টগ্রাম-২ :
এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন জিন্নাত আকতার।

তিনি বলেন, ফটিকছড়িতে একমাত্র নারী প্রার্থী আমি। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও নির্বাচনে তারা সেভাবে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে আমি একমাত্র স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী। ভোটের মাঠে সবস্তরের মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। এটা অনেক ইতিবাচক একটি দিক। আশাকরি ভোটের দিন এর প্রতিফলন পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম-১০ :
নগরীর ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–হালিশহর–খুলশী নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৩২ জন।

নিজের এ আসন এলাকায় বাসদের নারী প্রার্থী আসমা আক্তার প্রতিদিন জনসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। অলিগলি ঘুরে ঘুরে বলে যাচ্ছেন নিজের প্রত্যয় প্রতিশ্রুতির কথা।

এ ব্যাপারে আসমা আক্তার বলেন, মানুষ সাদরে গ্রহণ করছেন। রাজনীতির মাঠে ময়দানে ঘুরতে ঘুরতে এ পর্যন্ত এসেছি। আমাদের কমিটমেন্ট আছে। মানুষের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আবার অনিচ্ছাও রয়েছে এটা বাস্তবতা। কিন্তু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের উপর নানা রকম চাপ আসছে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে, প্রশাসনিক দিক থেকে ও মিডিয়ায় প্রচারের ক্ষেত্রে দুয়েকটি দলের তথাকথিত হেভিওয়েট প্রার্থীরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।

এখানে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সাবিনা খাতুনও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। ‘মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। ভোটারের সাথে কথা বলছেন। জনমানুষের কাছে নিজ দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বলে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দলের লক্ষ্য মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সব মানুষ ভাই ভাই, মানবতার রাষ্ট্র চাই। দেশ পরিচালিত হবে মানবতার পথে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মানুষের যথেষ্ট সাড়া পাাচ্ছি। সবাই উৎসাহিত করছে আমাকে।

চট্টগ্রাম-১১ :
এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৩২১ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ প্রার্থীর একজন বাসদের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার। দীপা মজুমদার ছাত্রজীবন থেকেই বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।

দীপা বলেন, আমি ভোটারদেরকে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন তারা মার্কা দেখে নয়, দল ও প্রার্থীর নীতি-আদর্শ বিচার করে ভোট দেয়। যারা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, ভোট নিতে ধর্মের ব্যবহার করে, ধনীদের স্বার্থ দেখে – তাদের ভোট দিলে তারা হয়তো জিতবে, কিন্তু আপনি কি জিতবেন? জনগণের পক্ষের লড়াইয়ের শক্তি হিসেবে, জনগণের অধিকারের দাবিতে বিগত সময়ে রাজপথে সোচ্চার থাকা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ-সৎ-নিঃস্বার্থ এবং বাসদ(মার্কসবাদী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমাকে জয়যুক্ত করুন। আমাকে ভোট দিয়ে ও ভোটের খরচ যুগিয়ে গণ-আন্দোলনের শক্তিকে বিকশিত করুন।

রাঙামাটি :
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চের প্রার্থী জুঁই চাকমা। পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে সমানতালে পাহাড় থেকে সমতলে চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।
রাঙামাটি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৫ জন।

জুঁই চাকমা বলেন, নির্বাচিত হলে রাঙামাটি জেলায় গ্যাস সংযোগ স্থাপন, রেললাইন স্থাপন, রাঙামাটি শহরের রাবার বাগান থেকে ডিসি বাংলো পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাঙামাটিতে বিমানবন্দর স্থাপন এবং কাপ্তাইয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে প্রথমে জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে পরে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

ভিডিও