রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানের আগেই কর্মবিরতি, পরিকল্পিত : বন্দর চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১১

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, ধর্মঘট মানে বন্দরকে জিম্মি করে ভিন্ন কিছু করার অপচেষ্টা। প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বিপথগামী হয়ে আন্দোলনকারী কর্মচারীরা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রমজানের আগেই কর্মবিরতি। এটা তো পরিকল্পিত। এর উদ্দেশ্য অন্যকিছু।

রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২ টায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে গণমাধ্যম কর্মীদের মত বিনিময়ে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন,ধর্মঘটের অস্তিত্ব নেই। এটার আইনগত কোনো বৈধতা নেই। যারা আন্দোলনের নামে বন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর সব সূচক অতিক্রম করে সাফল্যের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। আমাদের বৈশ্বিক যে প্রতিবন্ধকতা গ্লোবাল চেইনের সাথে সংযোগ করতে হলে পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করতে হবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ‘ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেল’ ধারণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড’র সাথে ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এখানে সবকিছু রিপেয়ার মেনটেইনেন্স তাদের। আমরা শুধু লভ্যাংশ ভোগ করব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লালদিয়া ও পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল আগে হয়েছে। বে টার্মিনালে কাজ চলছে। বর্তমানে এনসিটি ইজারার প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি’র ৭০ শতাংশ যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি রিপেয়ার বা নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে হবে। এখানে অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে এনসিটিকে আধুনিক ও বিশ্বমানের কন্টেইনার টার্মিনাল করা। এতে করে আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।

‘ইতোমধ্যে পাশ্ববর্তী দেশ ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সাথে ফ্রি ট্রেড বাণিজ্য চুক্তি করেছে। আমেরিকাও তাদের ট্যারিফ ১৮ শতাংশ করে দিয়েছে। এমন অবস্থায় আমরা পিছনে পড়ে যাচ্ছি। কন্টেইনার টার্মিনাল অপারেটিংয়ে ৩৪৮ টা বন্দরের মধ্যে আমরা ৩০৪ নম্বর অবস্থানে। আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাড়াতে হলে বিদেশি অপারেটরদের সাথে চুক্তি করতেই হবে।’

তিনি বলেন, জি টু জি চুক্তির মাধ্যমে এটা করা হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। চুক্তির প্রক্রিয়া লম্বা একটি প্রক্রিয়া। কবে তা সম্পূর্ণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। আমরা শুধু ধারাবাহিক কাজ করে যাচ্ছি। এখানে তাড়াহুড়ো করে কিছু করা হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের আগে কে করা হচ্ছে। এ প্রশ্ন কেন উঠেছে তা আমার বোধগম্য নয়। যেদিন হাই কোর্টের রায় হলো, সেদিন সাথে সাথেই বন্দরে মিছিল ও কর্মপ্রত্যাহার শুরু হয়ে গেল।

আইনগত ভাবে এবং প্রসিডিউরলি এবং জি টু জি চুক্তির স্টেপ অনুযায়ী সবকিছু হয়ে গেলে তারপর চুক্তি হবে। চুক্তির এ প্রক্রিয়াটা আমরা কোন কমপ্রমাইজ করিনি। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের সুবিধা অনুযায়ী জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই তা করা হবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য গুজব ছড়ানো হচ্ছে। চুক্তি হওয়ার আগেই চুক্তি ভন্ডুলের অপচেষ্টা চলছে।

এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে সোমবার আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে দুই দিনের জন্য অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। আজ রোববার থেকে আবার শুরু হয়েছে বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতি।

ভিডিও