চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেছেন, এবারের নির্বাচনকে আমরা চ্যলেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি। সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ করে তুলবো। এ নির্বাচনে কেউ ব্যালট বাক্স নিয়ে যেতে পারবে না। ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে বাক্স ভরিয়ে দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। কেবলমাত্র যোগ্য ভোটাররাই ব্যালট পেপারে সিল দেবেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রিজাইডিং অফিসারদের কেন্দ্রের ‘রাজাধিরাজ’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দুইভাবে হতে পারে একটি বাইরে থেকে, অন্যটি ভেতর থেকে। বাইরের দায়িত্ব আমাদের, আর ভেতরের দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারদের। ভেতর থেকে সমস্যা হলে তা আমাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। যা মূলত মিস ম্যানেজমেন্টের ফল। তাই সবাইকে আন্তরিকভাবে ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করতে হবে। আপনাদের কাছে সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিস এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, বিগত দিনের নির্বাচন কেমন হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। এবারের নির্বাচন পরিবেশ ভিন্ন ধরনের। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতা ঘটেনি। এর কৃতিত্ব জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর। তাদের সংযম আমরা দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, এমন নির্বাচনী পরিবেশ আর হয়তো দেখা যাবে না। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে দেশের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় কেউ এড়াতে পারবে না। একটু দায়িত্বশীল হয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করলেই সফল হওয়া সম্ভব।
এডহক ৪৮ এডি রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্টের লে. কর্নেল মো. সালাহ উদ্দিন আল মামুন বলেন, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন, পদাতিক ৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব ইশরাক অপূর্ব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) নোমান আহমদ, ক্যাপ্টেন মাহমুদ হাসান জাহিন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার হেদায়েত উল্লাহ, তামজীদ রহমান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তনুশ্রী গোস্বামী এবং বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান।
সভায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিথিরা। এদিন ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৯১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৩৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৮৪৪ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।