,

 

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মাঠে আবু নাছেরের সমর্থকরা, বেকায়দায় এনসিপি?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 6 February 2026, 11:08

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা-৮ আসনের মতোই আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী আংশিক) আসন। এই আসনে একদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ডা. মো. আবু নাছেরের শক্ত সমর্থকগোষ্ঠী, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থী জোবায়রুল হাসান আরিফ—দুই পক্ষের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।

জানা গেছে, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জোবায়রুল হাসান আরিফ। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। জোটের এই সিদ্ধান্তের পর জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের টানা প্রায় ৮ দিন কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নেননি। এমনকি ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জামায়াত আমীরের সমাবেশেও তাকে দেখা যায়নি।

তবে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ডা. আবু নাছেরকে গণসংযোগ করতে দেখা যায়। যদিও এই সময়টিতে জামায়াত ও শিবিরের কোনো সাংগঠনিক নেতাকে তার পক্ষে সরাসরি মাঠে নামতে দেখা যায়নি, তবুও স্থানীয়ভাবে তার অনুসারীরা সক্রিয় ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলার নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে দলীয় সবুজ সংকেত পেয়ে এই আসনে প্রচারণা শুরু করেন এবং অল্প সময়েই আলোচনায় চলে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা, চট্টগ্রামে একাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা এবং বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়ভাবে তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী জোবায়রুল হাসান আরিফ এই আসনের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা আরিফ এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক। হলফনামায় পেশা হিসেবে নিজেকে সাংবাদিক উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি ও সাংগঠনিক শক্তির অভাবে নির্বাচনী মাঠে বেশ বেকায়দায় রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তবে ডা. আবু নাছের ভাইয়ের প্রতি জনগণের যে সমর্থন, তার বিরোধিতা করাও আমাদের জন্য সহজ নয়।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ডা. মো. আবু নাছের বলেন, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের কারণে আমি কোনো প্রচারণায় বের হইনি। বাসাতেই ছিলাম। কিন্তু বোয়ালখালী ও চান্দগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ আমাকে বাসা থেকে বের করে এনেছে। এখন আমার উপায় কী? এই জনপদ ছেড়ে তো আর চলে যেতে পারি না। তাদের মায়া আমি কীভাবে ত্যাগ করবো? তারা আমাকে নির্বাচনে থাকতে বাধ্য করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও এনসিপি প্রার্থী জোবায়রুল হাসান আরিফের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে জোটগতভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোটের বাকি দলগুলোর উচিত ছিল এখানে এনসিপিকে সহযোগিতা করা। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তিনি সরে যাননি।

ভিডিও