রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কথা দিয়ে কথা রাখবেন তো প্রার্থীরা?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৯

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন । ভোটারদের মন জয় করতে তারা দিয়ে যাচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। কেউ বলছেন, ধানের শীষে ভোট দিলে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং পোর্ট বানাবেন। আবার কেউ বলছেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে এলাকাকে সিঙ্গাপুরের মত সাজাবেন। কেউ বা বলছেন, চট্টগ্রামকে স্কিলড ইয়ুথ হাবে পরিণত করবেন।

বলা যায়, নির্বাচনের এ সময়ে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি শুনতে শুনতেই ভোটারদের দিন কাটছে। তবে ভোটারদের প্রশ্ন, ভোটের আগে দেয়া কথা ভোটের পরে রাখবেন তো এবারের প্রার্থীরা ?

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার বিভিন্ন দলের ১১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াত জোট দুটি আসন ছেড়ে দিলেও প্রতিটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

নগর জামায়াতের সাবেক আমির ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে গিয়ে তিনি বলছেন, নির্বাচিত হলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মতো সাজানো হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুবসমাজকে নৈতিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে। ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রাম বন্দর ও সমুদ্র অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং পোর্টে রূপান্তর করা হবে। শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবসা-বাণিজ্যের হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যকেন্দ্র। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রতিশ্রুতি, সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রামের উন্নয়নের হাব হতে পারে সলিমপুর। সলিমপুর-ভাটিয়ারীকে ঘিরে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে উন্নয়ন সমৃদ্ধির স্বর্ণ দুয়ার হবে এই জনপদ। এ জন্য যা প্রয়োজন, তা করব আমি।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক বলছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণকে সাথে নিয়ে গড়বেন ইনসাফের বাংলাদেশ। এলাকার সড়ক ড্রেনেজ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ার আশ্বাসও দিচ্ছেন তিনি।

আবার বর্তমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তরুণ তুর্কি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের প্রতিশ্রুতি তরুণদের মন জয় কেন্দ্রিক। চট্টগ্রামকে একটি ‘স্কিলড ইয়ুথ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য বলছেন এই প্রার্থী।

তিনি বলছেন, চট্টগ্রামের তরুণদের জন্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। ক্ষমতায় গেলে আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি শিক্ষা, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রতিশ্রুতি দেয়াতে পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম-৮ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফও। ভোটারদের কাছে গিয়ে তিনি বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কালুরঘাট সেতুর ভিত্তি স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এবার বোয়ালখালীর মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচিত হলে এই অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন।

চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া চুনতি ইউনিয়নের তরুণ ভোটার মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, অতীত সময়ে অবাস্তব নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন প্রার্থীরা। কথা দিয়ে অনেকেই কথা রাখেননি। চেয়ারে বসার পর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে এবার চিন্তা করেছি ভেবে চিন্তে ভোট দেব। এখন ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন।

চট্টগ্রাম-১০ নগরীর দেওয়ানহাট এলাকার ভোটার শহীদুল হক বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকায় বসবাস করছি। বিগত সময়ে এখানে অনেকেই নির্বাচিত হলেও এলাকার আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। কথা দিয়ে কথা রাখার মানুষ বিরল। এবারের প্রার্থীরাও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমরা সাধারণ মানুষ দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চাই।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের মোহাম্মদ দিদার আলম বলেন, এলাকায় সন্ত্রাসী, হত্যা, সংঘর্ষসহ নানা সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এবারের প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলে সব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আমরা সাধারণ জনগণ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চলছে। উৎসব মুখর সুষ্ঠু পরিবেশে প্রচারণা চলছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।

ভিডিও