চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন করতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে বৈঠকে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
এসময় ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা চান আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি গণবদলির আদেশ প্রত্যাহারেরও দাবি তোলেন তারা। সরকারের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন তারা। বিষয়টি সরকারকে অবহিত করার আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীরা লাগাতার কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পাল্টা অনুরোধ জানান আন্দোলনকারীদের।
বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে একটি হোটেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ’র পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম।
বৈঠক শেষে বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষে এম এ সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামনে নির্বাচন ও তিন দিনের ছুটি রয়েছে। এর পরপরই শুরু হবে রমজান। এ অবস্থায় বন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে বিদ্যমান পণ্য যেমন সরবরাহ করা যাবে না, তেমনি নতুন পণ্যও আসবে না। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে উৎপাদন খাত, পাশাপাশি রমজানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভোক্তারাও। এনসিটি বিষয়ে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে আন্দোলনকারীরা।
বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, ব্যবসায়ীরা সরকার পক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করলে এবং শ্রমিক–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত সকল বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে।
সভায় বিজিএমইএ ছাড়াও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা), বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনরত শ্রমিক–কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।