চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন দমাতে ‘বদলি ও তদন্ত’ কৌশল গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তার সাথে আবার মিছিল,সভা-সমাবেশ,মানববন্ধন,পথসভা নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইজারা বিরোধী আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী বদলি, ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও জড়িতদের চিহ্নিতকরণে তদন্ত কমিটি এবং পুলিশি নিষেধাজ্ঞার পর আর কী সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে-সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শনিবার ইজারা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ৪ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
একইদিন একই কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নগর পুলিশ। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এ গণবিজ্ঞপ্তির কথা জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
বন্দরের এনসিটি বিদেশিদের ইজারার দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ৪ কর্মচারী নেতাকে শনিবার বদলি করা হয়। বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আজ রোববার যোগদান করতে বলা হয়েছে।
বদলিকৃতরা হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী আনোয়ারুল আজীম এবং প্রকৌশল বিভাগের খালাসি ফরিদুর রহমান। এর মধ্যে ইব্রাহীম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর একই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক, আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য।
এদিকে, ইজারা বিরোধী আন্দোলনে সরকারি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বন্দর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন বলেন, বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। বন্দর সচল রাখতে হলে কর্তৃপক্ষের উচিত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে যুক্ত কর্মীদের তালিকা করছে। এটা কারো জন্য শুভকর হবে না। এ ধরনের প্রক্রিয়া চলতে থাকলে আজকের কর্মবিরতি শেষে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে বদলি-এমনটা মানতে নারাজ বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, চারজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এটি বন্দরের রুটিন ওয়ার্ক। এর সাথে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল। একই দাবিতে গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজও কর্মবিরতি চলছে।