ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগজনক হারে। নির্বাচনের উত্তপ্ত সময়ে এসব অপপ্রচার প্রার্থীদের জন্য যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে, তেমনি বিভ্রান্ত করছে সাধারণ ভোটারদেরও।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ভিডিও, ফেসবুক পোস্ট ও গ্রাফিক্স ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে কিংবা টেলিভিশন ও পত্রিকার নামে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এত দ্রুত এসব অপতথ্য ছড়াচ্ছে যে অধিকাংশ মানুষ সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগই পাচ্ছেন না।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করে ‘ভোটার সম্মানি রসিদ’ নামে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি কুচক্রী মহল ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় ২৭ জানুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের পক্ষে টাকা বিতরণের একটি ভিডিও ২৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের দাবি, ওই অর্থ দোহাজারী শাহী জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজে দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে রাউজানের বিএনপি প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ‘সব দোষ মোবাইলের’ শীর্ষক একটি বক্তব্যের ভিডিও এবং কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের একটি বক্তব্যের অংশ ছড়িয়ে পড়লে সেগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা দাবি করেন, বক্তব্যের আংশিক অংশ কেটে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ব্যাকডোর প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, এসব প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার চুক্তি হলে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেবল সচেতনতা যথেষ্ট নয়। অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেকাংশে বন্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’