খাগড়াছড়ির পর্যটন বিকাশ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়নের অঙ্গীকার করেছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলাটির সংসদীয় আসনের ১০ প্রার্থী। পাশপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার কথা বলেছেন তারা।
শুক্রবার বিকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে খাগড়াছড়ি টাউন হলের সামনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন জেলা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ; সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে বিভিন্ন দলের মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা অনুপস্থিত থাকায় অনুষ্ঠানে নিয়েছেন ১০ প্রার্থী অংশ।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী মো. ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, তিনি খাগড়াছড়ির শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবেন। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত খাগড়াছড়ি গড়ে তোলার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দেন ধানের শীষের এই প্রার্থী।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, তিনি এলাকা থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে চান। প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি নারীদের উন্নয়ন ও নারী-শিশুর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে তিনি কাজ করবেন।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, তিনি এলাকার সন্তান হিসেবে খাগড়াছড়ির উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। বিশেষ করে বেকার যুবক এবং তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমা, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তাফা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের উপস্থিতিতে তারা সবাই পাহাড়ি অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।